চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:০৭ পিএম
চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে কার্যকর করতে হলে আমাদের ক্ষেত্রবিশেষে ডিরেগুলেট (অতিনিয়ন্ত্রণমুক্ত) করতে হবে বলে মন্তব্য করেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘এটা করতে হবে সিরিয়াসলি। যখন এটা করা হবে তখন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু কমে যাবে। ক্ষমতা ক্রমান্বয়ে বিকেন্দ্রীকরণ করলে স্থানীয় সরকার শক্তিশালী হবে, প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হবে। এতে আমলাতন্ত্রও দুর্বল হবে, দেশের মানুষ বেশি ক্ষমতায় থাকবে। অর্থাৎ সরকারের ক্ষমতা কমিয়ে দেশের মানুষের প্রতিটি ক্ষেত্রে ক্ষমতা বাড়াতে হবে। চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে কার্যকর করতে হলে আমাদের ক্ষেত্রবিশেষে ডিরেগুলেট করতে হবে।
রবিবার (১২ জানুয়ারি) নগরীর র্যাডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউর মেঘলা হলে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। ‘চট্টগ্রাম কবে বাণিজ্যিক রাজধানী হবে’ শিরোনামে এই গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করে দৈনিক প্রথম আলো।
বৈঠকে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যখন রাজনৈতিক ক্ষমতা খুব বেশি কেন্দ্রীভূত হয়, ইকোনমিক (অর্থনীতি) ক্ষমতা আস্তে আস্তে ওই জায়গায় চলে যায়। এটি ন্যাচারাল বিষয়। যে কারণে সব কিছু ঢাকা কেন্দ্রীক হচ্ছে। সবাই ক্ষমতার কাছে থাকতে চায়। সুতরাং যাঁরা চট্টগ্রামেও বড় বড় ব্যবসায়ী, তাঁরা চট্টগ্রামে থেকে তাঁদের ব্যবসা প্রসার বা সম্প্রসারণ করতে চান, তার জন্য ঢাকায় থাকাটা প্রয়োজন। কারণ, সিদ্ধান্তগুলো সব ঢাকায় হয়।
তিনি বলেন, ‘ঢাকায় না যাওয়ার জন্য কী কী করতে হবে, তার একটা তালিকা করি। তাহলে দ্রুত সমাধান আসবে। এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। উন্নত দেশগুলোতে প্রায় সব কাজ অনলাইনে হয়। কিন্তু এখানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সশরীরে যেতে হয়। যেমন ব্যাংকের ঋণের জন্য ঢাকায় গিয়ে তদবির না করলে হয় না।’
চট্টগ্রামকে লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, কারণ, চট্টগ্রামের উপকূল আছে। এটি প্রাকৃতিক। বাংলাদেশে দ্বিতীয় কোনো জায়গা নেই। অনেক জায়গায় বন্দর করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু জনগণের সম্পদ ও অর্থ নষ্ট হয়েছে। আর কিছু হয়নি। উপকূলের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করার ওপর জোর দেন তিনি।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এখানে পাহাড়, সমুদ্র, নদী আছে। এই সম্পদগুলো ব্যবহার করতে হবে। কানেকটিভিটি বাড়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু চট্টগ্রাম নয়, যে অঞ্চলের যে সম্ভাবনা রয়েছে, আমরা তা নিয়ে কাজ করছি। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসছি। আলাপ-আলোচনা করছি। সব সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে অর্থনীতি, মানুষের জীবনযাত্রা পরিবর্তন করতে চাই।
বৈঠকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, টিকে গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফা হায়দার, প্রিমিয়ার সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক, জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমাস শিমুল, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মুহাম্মদ রাশিদুল হাসানসহ চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।