লালমনিরহাট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:২৯ পিএম
পৌষের হাড়কাঁপানো শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে উত্তরের জেলা লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলার জনজীবন। শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীত নিবারণে সাধারণ মানুষের প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে লেপ ও তোষক।
এতে জেলার বিভিন্ন হাটবাজারের লেপ-তোষকের দোকানগুলোতে বেড়েছে ক্রেতার ভিড়, আর দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। গত কয়েকদিনের টানা শৈত্যপ্রবাহে গ্রামাঞ্চলে লেপ-তোষকের চাহিদা বহুগুণ বেড়েছে।
কারিগররা জানান, বছরের অন্যান্য সময় তুলনামূলক কম কাজ থাকলেও শীতের এই তিন মাসই তাদের আয়ের মূল মৌসুম। নতুন লেপ তৈরির পাশাপাশি পুরনো লেপ মেরামত ও নতুন করে তুলা ভরার কাজেও এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
সরেজমিন কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার বাজার ঘুরে দেখা যায়, দোকানগুলোতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তুলা ধোনা ও সেলাই মেশিনের খটখট শব্দে মুখরিত পরিবেশ। নিম্নআয়ের মানুষ তুলনামূলক কম দামের ঝুট তুলার লেপ কিনছেন, আর মধ্যবিত্তদের পছন্দ শিমুল বা কার্পাস তুলা। তবে তুলা ও কাপড়ের দাম বাড়ায় লেপের দামও বেড়েছে।
ক্রেতা মালেক মিয়া বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার একটি লেপ বানাতে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। সব কিছুর দাম বাড়ায় আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কষ্ট বেড়ে গেছে।
কালীগঞ্জের প্রবীণ কারিগর সোলাইমান আলী জানান, প্রতিদিন একজন কারিগর ৩ থেকে ৪টি লেপ তৈরি করতে পারছেন। তবুও সময়মতো অর্ডার দিতে পারছি না। শীত যত বাড়ছে, অর্ডারের চাপও তত বাড়ছে।
অন্যদিকে ব্যবসায়ী সামাদ মিয়া বলেন, বর্তমানে মানভেদে একটি লেপ বানাতে ১৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ পড়ছে। শিমুল তুলার দাম বেশি হওয়ায় অনেকেই এখন কার্পাস তুলার দিকে ঝুঁকছেন।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল শীতার্ত নিম্নবিত্ত ও দুস্থ মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে কম্বল বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।