টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৪০ পিএম
আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:১৯ পিএম
জালে ধরা পড়ছে ১০ লাখ টাকার ছুরি মাছ
কক্সবাজারের টেকনাফে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে শীত মৌসুমে জেলেদের টানা জালে ধরা পড়েছে প্রায় ১০৯ মণ ছুরি মাছ।
জেলেদের এক জালে ধরা পড়ছে ১০ লাখ টাকার বিভিন্ন
প্রজাতির মাছ। এ সময় ওই মাছ দেখার জন্য পর্যটক ও স্থানীয় লোকজন সেখানে ভিড় করেন।
খুশির আমেজ বইছে টেকনাফ উপকূলের জেলে পরিবারগুলোতে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর ২টার সময় টেকনাফ সদর ইউনিয়নের
গোদারবিল এলাকার বাসিন্দা মৌলভী হাফেজ আহমদের মালিকানাধীন জালে টেকনাফ সমুদ্রসৈকতে
মাছগুলো ধরা পড়ে।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মেরিন
ড্রাইভসংলগ্ন সমুদ্রসৈকতে এক জেলের টানা জালে ফাইস্যা ও ছোট-বড় ছুরি মাছ আটকা পড়ছে।
সাগর থেকে জেলেরা মাছ তোলার সঙ্গে সঙ্গে এসব মাছ ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করছেন পাইকারি
ক্রেতাদের কাছে। পাইকারি ক্রেতারা কিছু মাছ বাজারে তুললেও বাকি মাছ পাঠিয়ে দিচ্ছেন
শুটকি মহালে। এতে করে জালের মালিক ও জেলেসহ লাভবান হচ্ছেন মৎস্য সংশ্লিষ্ট উপকূলবাসী।
জেলে নৌকার মাঝি মো. ইসলাম বলেন, শনিবার আমাদের জালে
প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ উঠেছে। এতে আমরা ভীষণ খুশি। এই খবরে পরিবারের সবাই আনন্দিত।
অনেক দিন সাগরে মাছ পাচ্ছিলাম না। অভাবের কারণে অনেক জেলেকে কিস্তিতে সংসার চালাতে
হয়েছে। আজ আল্লাহ চাইলে সেই কিস্তি পরিশোধ করতে পারব। যদি এভাবে কয়েকদিন মাছ পাই, তাহলে
আমাদের আর অভাব–অনটনে থাকতে হবে না। আল্লাহর
কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।
টেকনাফ সদর ইউনিয়নের গোদারবিল এলাকার জালের মালিক মৌলভী
হাফেজ আহমদ জানান, আবহাওয়া ভালো থাকায় আজ হঠাৎ করে সাগরে প্রচুর মাছ ধরা পড়ছে। আমার
এক জালে ১০৯ মণের বেশি মাছ ধরা পড়ছে। বিক্রি করা হলো ১০ লাখ টাকায়। অন্যান্য বছরের
চেয়ে এই বছরের শুরুতে জালে প্রচুর পরিমাণে মাছ ধরা পড়ছে। প্রতিদিন মাছ ধরা পড়ায় উপকূলের
জেলেরা খুব আনন্দে দিন কাটাচ্ছে।
টেকনাফ উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তার প্রতিনিধি শহিদুল ইসলাম
বলেন, আজ (শনিবার) টেকনাফ সমুদ্রসৈকতে এক জেলের জালে ১০৯ মণের বেশি বিভিন্ন প্রজাতির
ছুরি মাছ ধরা পড়েছে। চুরি মাছ দিয়ে সাধারণত প্রচুর শুঁটকী উৎপাদন হয় টেকনাফে। শীতের
মৌসুমি ছুরি মাছ সাগরের প্রজনন বেশি হয়। মাছের প্রজনন ও ডিম ছাড়ার সময়ে ৬৫ দিন সাগরে
সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকে।