খুলনা অফিস
প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৩৭ পিএম
আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৩৯ পিএম
খুলনা-৫ আসনে নির্বাচনী সমাবেশে কঠোর ভাষায় দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজ রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও যারা চাঁদাবাজি, ঘের ও জমি দখল, সন্ত্রাস ও লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছে; তাদের হাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা তুলে দিলে সাধারণ মানুষ তো বটেই, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জানমালও নিরাপদ থাকবে না।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) খুলনা-৫ আসনের ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াত সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, উপজেলা হিন্দু কমিটির সেক্রেটারি অধ্যক্ষ দেব প্রসাদ মন্ডল, আটলিয়া ইউনিয়ন সভাপতি মাওলানা মতিয়ার রহমান, ইউনিয়ন সেক্রেটারি হাফেজ মঈন উদ্দিন, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী গবেষণা সম্পাদক ওবায়দুর রহমান প্রমুখ। তিনি শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া খর্ণিয়া ইউনিয়নের আঙ্গারদহা কৃষ্ণ কুন্ডু, রাজু ও গপি কুন্ডুর বসতবাড়িতে যান এবং শান্ত্বনা দেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, লাঙ্গল, নৌকা, ধানের শীষ সব প্রতীকের দলই রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেÑ এমনকি সামরিক শাসনও এসেছে। কিন্তু কোনো দলের কোনো নেতা বা সরকারপ্রধান বুক চিতিয়ে বলতে পারেননি যে, তারা দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও জুলুমমুক্ত শাসন দিয়েছেন। প্রত্যেক আমলেই দেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
তিনি বলেন, আমি পাঁচ বছর এমপি ছিলাম। তখন ডুমুরিয়াকে সন্ত্রাসমুক্ত করেছিলাম। প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ হয়েছে এবং এর বিনিময়ে কারও কাছ থেকে ১ টাকাও নেননি। এককাপ চাও নয়। এই দাবি করে তিনি বলেন, উন্নয়ন কাজের পূর্ণ হিসাব ইউনিয়ন ও খাতভিত্তিকভাবে বই আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।
বর্তমান নির্বাচনী প্রেক্ষাপট নিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, আবারও দুর্নীতিবাজদের ক্ষমতায় ফেরানোর ষড়যন্ত্র চলছে। এমপি বানাবে একজনকে, তিনি থাকবেন ঢাকা বা লন্ডনে। আর এলাকায় তার সাগরেদরা চাঁদাবাজি, মাস্তানি, ঘের দখল চালাবে, বলেন তিনি।
সন্ত্রাস দমনে নিজের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, যৌথ বাহিনী গঠন করে বহু সন্ত্রাসীকে জেলে পাঠানো হয়েছে, কেউ এলাকা ছেড়েছে। সাড়ে সাত বছর কারাবন্দি থাকার কারণে তিনি একাধিক নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননিÑ এমনকি ভোট দেওয়ার সুযোগও পাননি।