বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৩২ পিএম
আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৪৩ পিএম
বগুড়ায় প্রথম বারের মতো সফলভাবে বোন ম্যারো (স্টেম সেল) ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্ন করেছে টিএমএসএস হেমাটোলজি অ্যান্ড বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট সেন্টার। এর মাধ্যমে দেশের উত্তরাঞ্চলের উন্নত চিকিৎসাসেবায় নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় টিএমএসএস কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সাফল্যের কথা জানানো হয়।
টিএমএসএস সূত্র জানায়, রংপুর জেলার ভান্ডাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ৬০ বছর বয়সি মো. মিজানুর রহমানের শরীরে সফলভাবে বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্ন করা হয়। পুরো চিকিৎসা কার্যক্রম তত্ত্বাবধান ও পরিচালনা করেন টিএমএসএস হেমাটোলজি বিভাগের চিফ কনসালট্যান্ট অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রথমবার মিজানুর রহমানের রোগ শনাক্ত হয়। ছয় মাস চিকিৎসা গ্রহণের পর অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়ায় তিনি ওই বছরের ডিসেম্বরে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে ২০২৫ সালের আগস্টে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্টের সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে টিএমএসএস হেমাটোলজি অ্যান্ড বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট সেন্টারে চিকিৎসা শুরু হলে সফলভাবে ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্ন হয়।
সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসা প্রক্রিয়া, সম্ভাব্য ঝুঁকি, চ্যালেঞ্জ এবং উত্তরাঞ্চলে এ ধরনের জটিল চিকিৎসা বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে ঢাকার বাইরে উন্নত ও জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসাসেবা প্রদানে দেশের চিকিৎসকদের সক্ষমতার কথাও গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টিএমএসএসের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপিকা ড. হোসনে-আরা বেগম, ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ডা. মো. মতিউর রহমান, অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহসহ হেমাটোলজি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সংবাদ সম্মেলনে টিএমএসএসের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপিকা ড. হোসনে-আরা বেগম বলেন, ‘টিএমএসএসের উদ্যোগে সম্পন্ন এই সফল বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় এক ঐতিহাসিক অর্জন। এটি প্রমাণ করে, বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা এখন উত্তরাঞ্চলেও সম্ভব।’
চিকিৎসা দলের প্রধান অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ বলেন, ‘যথাযথ অবকাঠামো ও দক্ষ জনবল থাকলে আঞ্চলিক পর্যায়েও স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্টের মতো জটিল চিকিৎসা নিরাপদ ও সফলভাবে করা সম্ভবÑ এই সাফল্য তার প্রমাণ। ভবিষ্যতে টিএমএসএস আরও এমন সাফল্যের সাক্ষী হবে বলে আমরা আশাবাদী।’
টিএমএসএস মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘এই অর্জন টিএমএসএসের জন্য যেমন গর্বের, তেমনি উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্য খাতের জন্যও একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। এর ফলে উন্নত চিকিৎসার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।’
চিকিৎসা অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রোগী মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর আমি প্রায় আশাহীন হয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু চিকিৎসকরা আমার জন্য হাল ছাড়েননি। আল্লাহর কৃপা, চিকিৎসকদের যত্ন এবং টিএমএসএসে সফল ট্রান্সপ্লান্টের কারণে আজ আমি নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সফল বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট টিএমএসএস হেমাটোলজি অ্যান্ড বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট সেন্টারের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে ক্যানসার ও জটিল রক্তরোগের উন্নত চিকিৎসায় প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান আরও দৃঢ় হলো।