নোয়াখালী-১
নোয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:৪০ পিএম
আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:২৪ পিএম
নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী) সংসদীয় আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী জহিরুল ইসলামের ঘোষিত মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা পর্যালোচনায় এ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে হলফনামা ও আয়কর বিবরণীতে আয় ও কর প্রদানের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি দেখা গেছে।
হলফনামা অনুযায়ী,
জহিরুল ইসলাম আগে যুক্তরাজ্যের দ্বৈত নাগরিক ছিলেন। নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি গত ১২
ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন। স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী এই প্রার্থী প্রবাসে
থাকার সময় দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর স্বীকৃতিস্বরূপ সিআইপি হিসেবে মনোনীত হন।
জমা দেওয়া তথ্য
অনুযায়ী, জহিরুল ইসলাম তার বার্ষিক মোট আয় দেখিয়েছেন ৫ কোটি ৩৩ লাখ ৩৭ হাজার ৬২১ টাকা।
এর মধ্যে দেশে ব্যবসা থেকে আয় ২৩ লাখ ৫০ হাজার ৬৬১ টাকা এবং বিদেশি রেমিট্যান্স থেকে
আয় ৫ কোটি ৩৩ লাখ ২৭ হাজার ৮১৬ টাকা। পাশাপাশি নির্ভরশীল পরিবারের বার্ষিক আয় দেখানো
হয়েছে ৬৩ লাখ ১ হাজার ৪৭০ টাকা।
হলফনামায় ব্যবসা
থেকে বছরে ২৩ লাখ টাকার বেশি আয় দেখালেও চলতি অর্থবছরে তিনি আয়কর দিয়েছেন মাত্র ১ হাজার
৬১৭ টাকা। সর্বশেষ জমা দেওয়া আয়কর বিবরণীতে তিনি ৯ হাজার ৮০৫ টাকা আয় দেখিয়ে এর বিপরীতে
১ হাজার ৪৭০ টাকা কর পরিশোধের তথ্য দিয়েছেন।
হলফনামার তথ্যে
দেখা যায়, জহিরুল ইসলামের স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৪ কোটি ৮ লাখ ৫০ হাজার ৯৯৩ টাকা। অস্থাবর
সম্পদের মধ্যে রয়েছে হাতে নগদ ১ কোটি ৮৫ লাখ ১ হাজার ৮৭৩ টাকা, ব্যাংকে জমা ১ কোটি
৪৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮১৯ টাকা, কোম্পানির শেয়ার ২ লাখ টাকা এবং ৫০ ভরি স্বর্ণ। এ ছাড়া তিনি
ঋণ দিয়েছেন ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং ব্যবসায়িক মূলধন হিসেবে দেখিয়েছেন ৪৬ লাখ ৪৯ হাজার
৩৩৯ টাকা।
এ বিষয়ে জহিরুল ইসলাম বলেন, আমার কাছে যা কিছু তথ্য রয়েছে, তার সবই হলফনামায় স্বচ্ছভাবে উল্লেখ করেছি। প্রবাসে ব্যবসা করে বৈধভাবে দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছি বলেই আমি সিআইপি নির্বাচিত হয়েছি। দেশে আমার কোনো ধরনের আয় নেই। প্রবাস থেকে পাঠানো রেমিট্যান্সের বিপরীতে সরকার প্রণোদনা দিয়ে থাকে। ফলে দেশে আয় না থাকায় আয়কর দেওয়ার কোনো প্রশ্ন বা বিতর্কের সুযোগ নেই।