শরীয়তপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:০২ পিএম
আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:৪৮ পিএম
শরীয়তপুরের জাজিরায় ঘরে বোমা বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনার পর থেকে এলাকা পুরুষ শুন্য হয়ে পড়েছে। এদিকে, ঘটনার আলামত সংগ্রহে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) জাজিরার মুলাই ব্যাপারী কান্দি গ্রামে ঘটনাস্থলে যান পুলিশের সিআইডির ক্রাইমসিন বিভাগের বোমা বিশেষঞ্জ দল।
এর আগে ওই ঘটনায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এসআই আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে ৫৩ জনকে আসামি করে আরও অজ্ঞাতনামা ১৪০ থেকে ১৫০ জন আসামি করে জাজিরা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, জাজিরার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামে নবনির্মিত একটি বসতঘরের ভেতর বৃহস্পতিবার ভোরে বোমা বানাতে গিয়ে বিস্ফোরিত হয়। এতে ঘটনাস্থলে সোহান ব্যাপারী (৩২) নামের এক যুবক নিহত হন। আহত অবস্থায় ওই দিন বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নবীন হোসেন (২৮) নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া গুরুতর আহত নয়ন মোল্লাসহ বাকীদের চিকিৎসা চলছে। নিহত সোহান মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামের দেলোয়ার হোসেন ব্যাপারীর ছেলে ও নবীন হোসেন একই এলাকার রহিম সরদারের ছেলে।
জাজিরা থানার ওসি সালেহ আহম্মদ জানান, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় হতাহতরা বিলাসপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারীর সমর্থক। যে ঘরটিতে বিস্ফোরণ ঘটেছে, সেটি কুদ্দুস বেপারীর চাচাতো ভাই আবু সিদ্দিক ব্যাপরীর ছেলে সাগর ব্যাপারী। ঘটনার পর থেকে সাগর ব্যাপারী পলাতক রয়েছে। তিনি বলেন, স্থানীয় আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইউপি চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারী ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আবদুল জলিল মাদবরের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে।
এ ব্যাপারে জাজিরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুস সালাম বলেন, ঘটনার পর থেকে পুলিশের বেশ কয়েকটি ইউনিট বিলাশপুর এলাকায় কাজ করছি। ওই ঘটনায় জড়িতদের খোঁজ করা হচ্ছে। সন্দেহভাজন তিনজনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তিনি আরও বলেন, এসআই আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করার জন্য সিআইডির ক্রাইমসিন বিভাগের বোমা ডিসপোজাল ইউনিট কাজ করছে।