ঝালকাঠি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:২২ পিএম
আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:২৫ পিএম
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় কবি জীবনানন্দ দাশের স্মৃতিবিজড়িত জীবনানন্দ দাশ সংগ্রহশালা ও পাঠাগার পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নে জীবনানন্দ দাশ সংগ্রহশালা ও পাঠাগারে পৌঁছালে গভর্নরকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি। এ সময় গভর্নরের সঙ্গে ছিলেন তার পরিবারের সদস্যরা। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের বরিশাল অঞ্চলের নির্বাহী পরিচালক ইমতিয়াজ আহমদ মাসুদ ও পরিচালক মো. আবুল বাশারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
এদিন গর্ভনর কবি জীবনানন্দ দাশের পাঠাগারে কিছু দেখতে না পেয়ে এবং নদীটি ছোট হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও রিফাত আরা মৌরি গর্ভনরকে বলেন, পাঠাগারের কাজ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি, আর নদী ভরাট হয়ে ছোট হয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, কবি জীবনানন্দ দাশের প্রয়াণের প্রায় ৭০ বছর পর তার স্মৃতিকে সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে ২০২৩ সালে উপজেলার পিংড়ি এলাকায় ধানসিঁড়ি নদীর তীরে দুই কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে জীবনানন্দ দাশ সংগ্রহশালা ও পাঠাগারের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলেও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এটি উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।
কবি জীবনানন্দ দাশ বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য কলকাতা যান। তৎকালীন সময়ে বরিশাল থেকে কলকাতা যাতায়াতের প্রধান পথ ছিল নদীপথ। বরিশাল থেকে স্টিমারে খুলনা যেতে হতো, আর সেই যাত্রাপথে ঝালকাঠির ধানসিঁড়ি নদী ও গাবখান চ্যানেল অতিক্রম করতে হতো। এই নদীপথেই কবির সঙ্গে ধানসিঁড়ির এক গভীর আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা তার কবিতায় বারবার ফিরে এসেছে। ধানসিঁড়ি নদী তাই শুধু একটি নদী নয়—এটি কবি জীবনানন্দ দাশের সাহিত্য ও অনুভূতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।