কক্সবাজার ও টেকনাফ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:৩৭ পিএম
কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীতে মাছ ধরার সময় মো. আলমগীর (৩০) নামে এক জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে নাফ নদীর হোয়াইক্যং অংশে এ ঘটনা ঘটে।
আহত জেলে মো. আলমগীর টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বালুখালী গ্রামের মৃত ছৈয়দ বলির ছেলে। তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের রাখাইন সীমান্ত এলাকায় মাঝেমধ্যে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। আজও (শুক্রবার) কয়েক রাউন্ড গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।’
গুলিবিদ্ধ জেলের পরিবার জানায়, গতকাল বিকালে এক সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে নৌকায় করে নাফ নদীতে মাছ ও কাঁকড়া আহরণের জন্য যান আলমগীর। তারা নাফ নদীর মধ্যভাগে জেগে ওঠা ‘বিলাসীর দ্বীপ’ নামের জলসীমানায় পৌঁছালে হঠাৎ মিয়ানমারের দিক থেকে গুলি ছোড়া হয়। এ সময় একটি গুলি এসে আলমগীরের বাঁ হাতে লাগে।
আহত জেলের বড় ভাই সরওয়ার আলম জানান, গুলি লাগার পর আলমগীর নৌকার ভেতরে লুটিয়ে পড়েন। গুলি বাঁ হাত ভেদ করে বের হয়ে গেছে। সঙ্গে থাকা অন্য জেলেদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
তিনি জানান, আহত অবস্থায় প্রথমে আলমগীরকে উখিয়া কুতুপালং এমএমএস হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বিজিবি উখিয়া ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘নাফ নদীতে এক জেলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। ঘটনার পরপরই সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে নাফ নদীতে জেলেদের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কিছু জেলে সেখানে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় জেলেদের সচেতনতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, ‘হোয়াইক্যং সীমান্তে গোলাগুলি ঘটনায় সীমান্তে বসবাসকারী মানুষদের নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া গুলিবিদ্ধ জেলে পরিবারের খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।’
সীমান্তের বাসিন্দারা জানান, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে। এরই সূত্রে ধরে শুক্রবার সকালেও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। নাফ নদীতে জেগে ওঠা দুটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দেশটির রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা) ও রোহিঙ্গা নবী হোসেন বাহিনীর মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি আরাকান আর্মির সঙ্গে সশস্ত্র সংঘর্ষে জড়িয়েছে আরএসও। ওপার সীমান্তের তোতার দিয়া, হাসিমের দিয়া, বিলাসী দ্বীপ ও হসের দিয়া এলাকায় দখল ও পুনরুদ্ধার ঘিরে এ ঘটনা ঘটছে।
এর আগে গত ২৭ ডিসেম্বর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের জেরে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকায় একাধিকবার বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়।