রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৪১ এএম
আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:২৬ পিএম
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচলে অবস্থিত বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অন্যান্য দিনের তুলনায় বৃহস্পতিবার দর্শনার্থী ও ক্রেতার সমাগম বেড়েছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচলে অবস্থিত বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অন্যান্য দিনের তুলনায় বৃহস্পতিবার দর্শনার্থী ও ক্রেতার সমাগম বেড়েছে। মেলা ঘুরে দেখা যায়, মেলার ষষ্ঠ দিনে কারাবন্দিদের হাতে তৈরি পণ্যসামগ্রী ক্রেতা এবং দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে। কারাবন্দিদের হাতে তৈরি পণ্যসামগ্রী মানসম্মত হওয়ায় এবং দেশীয় কাঁচামাল দিয়ে তৈরি করায় ক্রেতারা আকৃষ্ট হচ্ছেন। তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য ক্রয় করছেন।
জানা যায়, সংশোধনমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কারাবন্দিরা প্রশিক্ষণ নিয়ে নানা ধরনের পণ্য তৈরি করছেন। তাদের উৎপাদিত পণ্যের মধ্যে রয়েছেÑ নকশাদার ঝুড়ি, মাটির সামগ্রী, বাঁশের ঝুড়ি, বাঁশের ডালা, বাঁশের ফুলদানি, হাতে তৈরি চটের ব্যাগ, সুতা বোনা দড়ি, নকশাদার পাটি, হাতে তৈরি মাদুর, কাঠের শোপিস, কাঠের চাবির রিং, কাঠের খেলনা, মাটির ফুলের টব, মাটির শোপিস, হাতে সেলাই করা কাঁথা, সুতির হাতের কাজের চাদর, হাতে তৈরি জুতা, হাতে সেলাই করা ব্যাগ, নারিকেলের খোলের শোপিস, বেতের তৈরি চেয়ার, বেতের ঝাড়ু, হাতে তৈরি মোমবাতিসহ বিভিন্ন পণ্য। এসব পণ্য মেলায় প্রদর্শনীর মাধ্যমে কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে বিক্রি করা হচ্ছে।
ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা জানান, কারাগারে তৈরি হস্তশিল্পসামগ্রীর গুণগত মান অনেক উন্নত। দেশীয় কাঁচামাল ও হাতে তৈরি এসব পণ্য হারানো ঐতিহ্যের কথা মনে করিয়ে দেয়। তারা বলেন, বাপ-দাদার আমলে ব্যবহৃত নানা ধরনের হস্তশিল্প মেলায় কারা কর্তৃপক্ষ নিয়ে এসেছে। পণ্যের মান ভালো হওয়ায় ক্রেতারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
বাণিজ্য মেলায় কারাবন্দিদের তৈরি হস্তশিল্প বিক্রির শোরুমের দায়িত্বে থাকা রুবেল হোসেন বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জেলখানায় বন্দিদের হাতে তৈরি হস্তশিল্পসামগ্রী মেলায় আনা হয়েছে। পণ্যসামগ্রী বিক্রির পর যে লাভ হয়, তার অর্ধেক অংশ কারাবন্দিরা মজুরি হিসেবে পান। মজুরির এই টাকা তারা নিজেদের পরিবারের কাছে পাঠাতে পারেন।’
দেশীয় পণ্যের প্রচার, প্রসার, বিপণন ও উৎপাদনে সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর যৌথ উদ্যোগে ১৯৯৫ সাল হতে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আয়োজন হয়ে আসছে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচল উপশহরে অবস্থিত বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে গত ছয় বছর ধরে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে ঢাকার আগারগাঁওয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হতো।
মেলায় সাধারণ দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে কাউন্টারে টিকিটের মাধ্যমে কুড়িল বিশ্বরোড, ফার্মগেট (খেজুরবাগান/খামারবাড়ি), নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী হতে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বাণিজ্য মেলার উদ্দেশে বিআরটিসির ২০০টিরও বেশি বাস চলাচল করছে। দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছেন ৯০০ পুলিশ সদস্য। এ ছাড়া সার্বক্ষণিকভাবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তদারকি করছেন।