নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:৩৩ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল জেলার ৬টি আসনে বৈধ প্রার্থী ৪১ জন। এদের মধ্যে নিজের ও স্ত্রীর নামে কোটি টাকার সম্পদের মালিক ১২ প্রার্থী। মোট প্রার্থীর শতকরা প্রায় এক-তৃতীয়াংশই কোটি টাকার সম্পদের মালিক।
এই ১২ কোটিপতির মধ্যে সবচেয়ে ধনী জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি গোলাম কিবরিয়া টিপু। জুলাই আন্দোলনের মামলায় কারান্তরীণ এই নেতা বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে প্রার্থী। স্ত্রীদের মধ্যে টিপুর স্ত্রীর সম্পদও তালিকায় প্রথম এবং প্রার্থী ও স্ত্রীদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।
প্রার্থীদের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন বরিশাল-৫ (সদর) আসনের বিএনপি প্রার্থী সাবেক এমপি মজিবর রহমান সরোয়ার। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন বরিশাল-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে জমা দেওয়া হলফনামায় এসব সম্পদের তথ্য উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা।
হলফনামা অনুযায়ী, বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া ছয়জন প্রার্থীর সবাই ব্যবসায়ী। জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে চারজন শিক্ষক এবং একজনের আয়ের উৎস বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিল ও তাফসির। বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে কম সম্পদ বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনের রাজিব আহসানের। স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এই নেতার স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে মোট সম্পদের পরিমাণ ৮৩ লাখ টাকা। সম্পদে পেছানো থাকলেও আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি মামলার আসামি হয়েছেন বিএনপির এই নেতা। হলফনামায় দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে মোট ৮২টি মামলা।
জেলে থেকে মনোনয়নপত্র দাখিল করা জাপা নেতা গোলাম কিবরিয়া টিপুর নগদ অর্থ ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৩৯ কোটি ৩৫ লাখ ৭৮ হাজার ৮৬১ টাকা। এ ছাড়া ৫ কোটি ৯৯ লাখ ৬০ হাজার ৮৮৪ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে তার স্ত্রীর নামে। স্থাবর সম্পদেও সবাইকে ছাড়িয়ে অনেক ওপরে কিবরিয়া টিপু। ১৮ কোটি ৩৬ লাখ ৮৩ হাজার ৮৪২ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে তার। স্ত্রীর নামে থাকা স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৭ টাকা।
টিপুর পর অবস্থান বিএনপির মজিবর রহমান সরোয়ারের। ৮ কোটি ৩ লাখ ৪০ হাজার ৯৫৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের মালিক এই বিএনপি নেতা।
সম্পদ এবং মামলায় বিএনপি নেতাদের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন বরিশাল-৩ আসনের প্রার্থী দলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।
জয়নুলের পরেই অবস্থান বরিশাল-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী সরদার সরফুদ্দিন সান্টুর। হলফনামায় নিজের নামে ১ কোটি ৯ লাখ ৩৮ হাজার ৭৭৩ টাকার অস্থাবর সম্পদ উল্লেখ করেছেন তিনি।
বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে সম্পদে চতুর্থ বরিশাল-১ আসনের প্রার্থী সাবেক এমপি জহিরুদ্দিন স্বপন। পেশায় ব্যবসায়ী স্বপনের নিজের নামে থাকা অস্থাবর সম্পদের মূল্য ১ কোটি ৫২ লাখ ৪৩ হাজার ৮৬০ টাকা।
বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনের বিএনপি প্রার্থী সাবেক এমপি আবুল হোসেন খান তার অস্থাবর সম্পদের মূল্য দেখিয়েছেন ১ কোটি ৭০ লাখ ৫৫ হাজার ৮৫৫ টাকা। তার স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৭ লাখ ৩১ হাজার ৬২০ টাকা।
শায়েখ চরমোনাই নামে পরিচিত চরসোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিমের আপন ভাই ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম। তিনি বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনে প্রার্থী হয়েছেন। ২ হাজার ৪৪০ শতাংশ জমির মালিক মুফতি ফয়জুলের স্থাবর সম্পদের মূল্যমান ৩ কোটি ১৫ লাখ ২০ হাজার ১২৪ টাকা। অস্থাবর সম্পদ হিসাবে ৩৩ লাখ ১৩ হাজার ২২৩ টাকা রয়েছে তার।
বরিশাল জেলার ছয়টি নির্বাচনী এলাকায় মনোনয়নপত্র দাখিল করা আরও কয়েক কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক হলেন, বরিশাল-১ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান, বরিশাল-৩ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন তাপস, বরিশাল-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী সৈয়দ এছাহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের। তাদের মধ্যে মুফতি ফয়জুল করিম ও এছাহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের চরমোনাই বর্তমান পীর ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিমের আপন ভাই।