হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ
হাওরাঞ্চল প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৪১ পিএম
এ ভাঙা স্থানটি ভরাটে দুটি প্রকল্পের বিপরীতে এবারও প্রায় অর্ধকোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে পাউবো। ছবিটি পাকনার হাওরের বগলাখালী বাঁধের ভাঙা স্থান থেকে তোলা Ñপ্রবা ফটো
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে পাউবোর অধীনে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতের কাজ উদ্বোধনের ২৪ দিন পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ বাঁধের কাজ এখনও শুরুই হয়নি।
এবার হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের মেরামত কাজের জন্য পাউবো মোট ৪১টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করে। এর মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মাত্র ১৬টি প্রকল্পে মাটি কাটার কাজ শুরু হয়েছে বলে পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী জাহেদুল ইসলাম জনি জানান। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবোর) নীতিমালা অনুযায়ী গত বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের প্রকল্প স্থান নির্ধারণ, প্রাক্কলন তৈরি, জরিপ কাজ, গণশুনানি, পিআইসি গঠনসহ যাবতীয় কাজ শেষ করার পর ১৫ ডিসেম্বর থেকে বাঁধের কাজ শুরু করে তা ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার কথা। কিন্তু কাজ শুরুর নির্ধারিত সময়ের ২৪ দিন পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ বাঁধে এখনও মাটি কাটার কাজ শুরুই হয়নি।
যথাসময়ে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শুরু না করায় আগাম বন্যায় হাওরে থাকা বছরের একমাত্র বোরো ফসলহানির আশঙ্কা করছেন হাওর এলাকার কৃষকরা।
এলাকাবাসীসহ উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কমিটির একাধিক সদস্যের অভিযোগ, হাওরের অধিকাংশ বাঁধ অক্ষত থাকলেও এবার কাজের বরাদ্দ কমেনি। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিগুলো (পিআইসি) সংশ্লিষ্ট বাঁধের নিকটবর্তী গ্রামের কৃষক ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে করার কথা থাকলেও এবার পিআইসি করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট বাঁধের ২-৩ কিলোমিটার দূরের গ্রামের পছন্দের লোকজন দিয়ে। এ ছাড়াও উপজেলার পাকনা হাওরের বগলাখালী নামক ক্লোজারে প্রতি বছরই ৪০ ও ৪১ নম্বর এই ২টি পিআইসি গঠন করে প্রকল্পের কাজ করা হয়। এ দুটি প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয় প্রায় অর্ধকোটি টাকা। এবার ওই দুটি প্রকল্পের অর্ধেক বাঁধ অক্ষত থাকা সত্ত্বেও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে গত বছরের সমপরিমাণ।
সুনামগঞ্জ পাউবোর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার পাউবোর অধীনে জামালগঞ্জ উপজেলার ছোট-বড় ৬টি হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত কাজে ৪১টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির বিপরীতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৭ কোটি ৬৪ লাখ ৬১ হাজার টাকা। কিন্তু কাজ শুরু করার ২৪ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও অধিকাংশ বাঁধের কাজ শুরুই হয়নি।
সম্প্রতি এসব অনিয়মের বিষয়ে ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগও দেয় এলাকাবাসী।
উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কমিটির সদস্য সাংবাদিক তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ বলেন, এ কমিটিতে আমাকে গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে সদস্য করা হয়েছে। কিন্তু কমিটির সদস্য সচিব জাহিদুল ইসলাম জনি কমিটির কোনো মিটিংয়েই আমাকে উপস্থিত থাকার জন্য বলেননি। তবে বাঁধ নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে বলে আমার কাছে তথ্য রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কমিটির সদস্য সচিব সুনামগঞ্জ পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী জাহেদুল ইসলাম জনি বলেন, নীতিমালা অনুযায়ীই হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৬টি পিআইসির কাজ শুরু হয়েছে। অন্যান্য প্রকল্পের কাজও দ্রুতই শুরু হবে। এ ছাড়া মাটি কাটার স্থানগুলোতে এখনও পানি থাকায় কিছু কিছু প্রকল্পের কাজ শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে যথাসময়ের মধ্যেই বাঁধের কাজ সম্পন্ন করা হবে বলেও তিনি জানান।
উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কমিটির সভাপতি ইউএনও মুশফিকীন নূর বলেন, পিআইসি কমিটি গঠনে অনিয়মের বিষয়ে আমার কাছে কৃষকদের দেওয়া কোনো অভিযোগ এখনও নজরে আসেনি। সেটি আমি খোঁজ নিয়ে দেখব। তবে প্রকল্পের কাজ যথাসময়ে শুরু হয়েছে এবং তা সময়মতো শেষও করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদারের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এখন হাওরের বিভিন্ন বাঁধ পরিদর্শনে আছি। পরে এ বিষয়ে পরে কথা বলব।