দুর্গাপুর (রাজশাহী) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৩৮ পিএম
রাজশাহীর দুর্গাপুরে দীর্ঘদিন ধরে কৃষিজমি কেটে পুকুর খনন চক্রের দৌরাত্ম্য স্থানীয় মানুষের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিশেষ করে এলাকার বহু তিন ফসলি উর্বর জমি রাতারাতি দীঘি বা গভীর গর্তে পরিণত হয়েছে।
শীত, বোরো ও আউশÑ এই তিন মৌসুমে নিয়মিত ফসল হতো এমন জমিগুলোতে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পুকুর খনন করা হয়েছে। এতে উৎপাদন কমে যায়, বর্ষায় পানিতে পাশের জমি ডুবে যায়, আবার কোথাও পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে ফসল রক্ষা কঠিন হয়ে পড়ে।
এদিকে গত কয়েক বছরে এসব অনিয়ম নিয়ে এলাকাবাসীর ক্ষোভ থাকলেও প্রভাবশালী চক্রের কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেত না। শুধু তাই নয়, অবৈধ পুকুর খনন চক্র বরেন্দ্র অঞ্চলের ডিপ টিউবওয়েলের পাইপ, মোটর ও সেচ সরঞ্জামও ধ্বংস করেছেÑ যা শত শত কৃষকের সেচ সুবিধা ব্যাহত করছে। তবে সম্প্রতি দুর্গাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লায়লা নুর তানজু মাঠে নেমে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন করেছেন। তার দাপুটে পদক্ষেপ আর নিয়মিত অভিযানে পুরো পুকুর খনন চক্র এখন আতঙ্কে রয়েছে।
অভিযান পরিচালনা করে কখনও ভেকুমেশিন অকেজো, জেল-জরিমানাসহ ভূমি সুরক্ষা আইনে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। অবৈধভাবে কৃষিজমি কেটে পুকুর খনন বন্ধে তার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযান এ চক্রের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। অনেকে আবার ভয়ে গা-ঢাকা দিয়েছে।
এসি ল্যান্ড লায়লা নুর তানজু যোগদানের পর থেকে এ উপজেলায় ১২/১৪ স্থানে কৃষি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন শুরু হয়েছিল। গোপন সংবাদের ভিক্তিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে কৃষিজমি কেটে পুকুর খনন বন্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করেন তিনি। তার দৃঢ় অবস্থান ও নির্দেশনায় পুকুর খনন চক্রে নেমে আসে চরম আতঙ্ক।
উপজেলার উজালখলসি এলাকার কৃষক সাজাহান জানান, আমাদের আবাদি জমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন কঠিন ব্যবস্থা নেওয়ায় আমরা অনেকটাই স্বস্তি পেয়েছি।