কক্সবাজার অফিস
প্রকাশ : ২২ ডিসেম্বর ২০২২ ২০:৫২ পিএম
আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০২২ ২১:০৭ পিএম
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সাঁতারুরা। ছবি : প্রবা
বাংলা চ্যানেলে সাঁতারের ১৭তম আয়োজনে সফল হয়েছেন ২০ সাঁতারু। এবারের আয়োজনে এক নারীসহ ৩১ জন অংশ নেন। তাদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম রাসেল তিন ঘণ্টা ৫৩ মিনিট সময় নিয়ে সবার আগে পাড়ি দেন। ষষ্ঠবারের মতো বাংলা চ্যানেল জয় করলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা ৭ মিনিটে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিমপাড়া সমুদ্রসৈকত থেকে সাঁতার শুরু হয়। শাহপরীর দ্বীপ থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপের ১৬ দশমিক ১ কিলোমিটার সমুদ্রপথ হচ্ছে ‘বাংলা চ্যানেল’। প্রতিযোগীরা চ্যানেল পাড়ি দিয়ে সাঁতার শেষ করেন সেন্টমার্টিন দ্বীপের উত্তর সৈকতে। ১৭তম আসর আয়োজন করে ‘ষড়জ অ্যাডভেঞ্চার’ ও ‘এক্সট্রিম বাংলা’। সহযোগিতায় ছিল ভিসাথিং, ইউনাইটেড সিকিউরিটিজ লিমিটেড ও এনসিসি ব্যাংক লিমিটেড।
এবারের প্রধান সমন্বয়ক ও ষড়জ অ্যাডভেঞ্চারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লিপটন সরকার বলেন, ‘এবার সাগর শান্ত ছিল, কিন্তু তাপমাত্রা অনেক কম ছিল। অন্যদিকে ভাটার টানটাও কম ছিল, যার জন্য বেশ কিছু সাঁতারু সমস্যায় পড়ে শেষ করতে পারেননি।’

এবার রাব্বি রহমান ৩ ঘন্টা ৫৪ মিনিট সময় নিয়ে দ্বিতীয় হন। এটা তার তৃতীয়বারের মতো বাংলা চ্যানেল জয়। মনিরুজ্জামান ৪ ঘন্টা ৫০ মিনিট সময় নিয়ে তৃতীয় এবং বারোতম বার পাড়ি দেন। আয়রনম্যান আরাফাত ৯ম বার পাড়ি দেন ৪ ঘন্টা ৫৭ মিনিটে। তাছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলী রওনক ইসলাম দ্বিতীয়বার চ্যানেল পাড়ি দেন। সাঁতারু শেখ মাহবুবুর রহমান তৃতীয়বার, আবুল কালাম আজাদ দ্বিতীয়বার, মাসুদ রানা দ্বিতীয়বার, মোহাম্মদ জিহাদ হোসেন তৃতীয়বার, মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন দ্বিতীয়বার, মোহাম্মদ কামাল হোসেন দ্বিতয়বার, উজ্জ্বল চৌধুরী দ্বিতীয়বার, মোহাম্মদ বদর উদ্দীন, মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী, এস কে রায়হান, মোহাম্মদ তারেক হাসান, আব্দুল্লাহ আল সাবিত, মোহাম্মদ ফারুক হোসাইন, মোহাম্মদ আবু রাশেদ, মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, এবাদুল ইসলাম বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেন।
লিপটন সরকার বলেন, আন্তর্জাতিক রীতি মেনে এই সাঁতার পরিচালনা করা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও নেওয়া হয়। ধারাবাহিকভাবে প্রতিবছর এই নৌপথে সাঁতার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে বাংলাদেশে দূরপাল্লার সাঁতার জনপ্রিয় হচ্ছে।
বঙ্গোপসাগরে দূরপাল্লার সাঁতারের উপযোগী ১৬ দশমিক ১ কিলোমিটার দূরত্বের বাংলা চ্যানেল আবিষ্কার করেন প্রয়াত অ্যাডভেঞ্চারগুরু কাজী হামিদুল হক। ২০০৬ সালে প্রথমবারের মতো বাংলা চ্যানেলে সাঁতার অনুষ্ঠিত হয়। সেবার অংশ নেন লিপটন সরকার, ফজলুল কবির সিনা ও সালমান সাইদ।
আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, পানিতে ডুবে মৃত্যু থেকে রক্ষা পেতে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিতে তারা এই আয়োজন করে থাকেন। তাছাড়া স্পোর্টস অ্যাডভেঞ্চারকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি এই চ্যানেলকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরাও তাদের উদ্দেশ্য।