× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

হাওরে বোরো ছেড়ে ভুট্টা চাষে লাভবান কৃষক

সাইফুল হক মোল্লা দুলু, মধ্যাঞ্চল

প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:৫৮ পিএম

হাওরে বোরো ছেড়ে ভুট্টা চাষে লাভবান কৃষক

হাওর মানেই শুকনো মৌসুমে ধান চাষের সমারোহ। যতদূর চোখ যায় সবুজ ধানের ক্ষেত। অথচ দিনে দিনে সেই চিরচেনা দৃশ্যে কিছুটা ছেদ পড়ছে। হাওরপাড়ের কৃষকরা আর আগের মতো ধান চাষে আগ্রহী নয়। তাদের একটি বড় অংশ ঝুঁকছেন অন্যান্য উৎপাদনমুখী ফসল চাষে।

বিশেষ করে চলতি বছর হাওর অঞ্চলে বেড়েছে ভুট্টার আবাদ। কৃষকদের একটি বড় অংশ এখন ভুট্টা চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গত বছর লাভের মুখ দেখায় এ বছর তারা অনেক বেশি ভুট্টা চাষ করেছেন। ধান চাষে প্রতিবছরই আগাম বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হন হাওরের কৃষকরা। তখন মহাজনের দেনা পরিশোধে কৃষক হয়ে পড়েন দিশেহারা। এ অবস্থায় কম খরচে বেশি লাভজনক হওয়ায় কিশোরগঞ্জের হাওরে কৃষকরা ভুট্টা চাষ করছেন। ফলে পাল্টে যাচ্ছে কৃষকের জীবন-জীবিকা ও চাষাবাদের ধরন।

কৃষকরা জানায়, বোরো ধানের আবাদ করে কোনো রকমে উৎপাদন খরচ উঠলেও গত কয়েক বছর তারা খুব একটা লাভের মুখ দেখেননি। বোরো আবাদের সময় ধানের বীজ, বীজতলা তৈরি, সার, কৃষি শ্রমিক, কীটনাশক, জমিতে পানি দেওয়া, ধান কাটা ও ধান মাড়াই মিলে প্রতি একরে খরচ হয় ৩৩ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। একরপ্রতি ধানের ফলন হয় ৬৫ থেকে ৭৫ মণ। ওই ৭৫ মণ বোরো ধান বাজারদরে বিক্রি করে পাওয়া যায় ৪০-৪৫ হাজার টাকা। এতে লাভের পরিমাণ খুবই কম। আর দুর্যোগ হলে তো কথাই নেই। ফলে ভুট্টা চাষে খরচ অনেক কম, কম পরিশ্রম আর ধানের চেয়ে কম সময়ে ফসল গোলায় যায় এবং এটি অত্যন্ত লাভজনক একটি ফসল। 

প্রতি বিঘা জমি থেকে চলতি মৌসুমে গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ মণ ভুট্টা ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়াও ভুট্টা চাষ করলে জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পায়, যার কারণে প্রতি বছরই ভুট্টা চাষ বাড়ছে।

জানা গেছে, দে‌শের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে খাদ্যশস্যের অফুরন্ত ভান্ডার বলে খ্যাত হাওর জেলা কি‌শোরগঞ্জ। একসময় এ জেলার কৃষকরা শুধু বো‌রো আবাদের ওপর নির্ভরশীল থাকলেও সেখানে দিন দিন বেড়ে চলছে ভুট্টা চাষ। হাওরের পতিত জমি ও বোরো আবাদের অনেক জমিতেও বর্তমানে ভুট্টা চাষ করছেন কৃষকরা। বিশেষ করে গত কয়েক বছর আগে হাওরের ভুট্টা আবাদ শুরু হয়। সে সময় কৃষকরা ভুট্টা চাষ করে অনেক লাভবানও হন। এ থেকেই হাওরের পতিত জমি ও বোরো আবাদের অনেক জমিতে ভুট্টা চাষ করছেন কৃষকরা। ভুট্টা চাষে সময় ও খরচ দুটোই সাশ্রয়ী। 

এ ছাড়া হাওর অলওয়েদার সড়ক নির্মাণের ফলে বাজারজাতে সুবিধা পাচ্ছেন কৃষকরা। এদিকে ভুট্টা গাছের পাতা গো-খাদ্য হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। একই সঙ্গে ফসল সংগ্রহ শেষে ভুট্টার গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। হাওরাঞ্চলে জ্বালানির সমস্যা সমাধানে ভুট্টা অন্যতম সহায়ক বলেও মনে করেন গৃহিণীরা। এর বছর কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলাগুলোতে মাঠের পর মাঠ চাষ করা হয়েছে ভুট্টার। ভবিষ্যতে এ আবাদ আরও বাড়বে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিন বিভিন্ন হাওরাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, যেসব জমিতে গত বছরও ধানের আবাদ হয়েছে সেসব স্থানে মাঠের পর মাঠ দেখা যাচ্ছে সবুজের সমারোহ। কৃষকের ক্ষেতে শোভা পাচ্ছে বেড়ে ওঠা ভুট্টার চারা। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণের তথ‌্যমতে, গত বছর কিশোরগঞ্জ জেলায় ১২ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছিল। এতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল যেখানে উৎপাদন ধরা হয়েছিল ১২ হাজার ২১০ মেট্রিক টন। চলতি বছর কিশোরগঞ্জ জেলায় প্রায় ১১ হাজার ৭৮০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, যদি ফলন ঠিক থাকে তাহলে এ বছর এ জেলায় ১ লাখ ২০ হাজার ৫০০ টন ভুট্টা উৎপাদন হবে। ধারণা করা হচ্ছে, এ বছরও কৃষকরা ভুট্টা চাষে সফলতা পাবে। 

কিশোরগঞ্জ পৌর মহিলা কলেজে সহকারী অধ্যাপক সাদেকুর রহমান বলেন, কৃষকরা আগে ধান আবাদ করত, এখন কিশোরগঞ্জের হাওরবেষ্টিত নিকলী, মিঠামইন, বাজিতপুর ও অষ্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় এখন আগের চেয়ে ভুট্টার আবাদ বেশি হচ্ছে। চাহিদা থাকায় ভুট্টার দামও ভালো পাচ্ছেন কৃষকেরা। ফলে ভুট্টা আবাদের ঝুঁকছে কৃষকরা। 

উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা জানান, তারা বরাবরই কৃষকদের ভুট্টা চাষে প্রণোদনা দিয়ে আসছেন। ভুট্টা চাষে লাভ বেশি, খরচ কম। তা ছাড়া জমি পড়ে থাকার চেয়ে কৃষকদের চাষে আগ্রহী করেছে। এতে কৃষকরাও অনেক বেশি লাভের মুখ দেখছেন।

অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, পুষ্টিসমৃদ্ধ ভুট্টা লাভজনক হওয়ায় চাষাবাদে দিন দিন কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। ভুট্টা আবাদে হাওরে কোনো ঝুঁকি নেই, উৎপাদন খরচ কম আবার দামও ভালো পাওয়া যায়। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা