নোয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:০০ পিএম
আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:২১ পিএম
নোয়াখালীর চাটখিলে আদালতের নির্দেশে ১৮ মাস পর কবর থেকে তোলা হয়েছে মো. ইমতিয়াজ হোসেন রিয়াজের মরদেহ। বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে চাটখিল উপজেলার হাটপুকুরিয়া ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে মরদেহ উত্তোলন করা হয়।
ইমতিয়াজ হোসেন রিয়াজ (৩০) ওই গ্রামের ওয়ারী মিয়া বেপারীবাড়ির মো. হাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি পেশায় একটি কুরিয়ার সার্ভিসে ডেলিভারি ম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চাটখিল থানায় হামলা ও অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটে। ওই সময় থানায় ঢুকে একটি অস্ত্র লুট করে মোটরসাইকেলে করে স্থান ত্যাগ করার সময় পথিমধ্যে গুলিবিদ্ধ হন ইমতিয়াজ। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে পরে তার মৃত্যু হয়। তবে পরিবারের দাবি, থানার অস্ত্র নয়, অজ্ঞাত ব্যক্তির গুলিতে তিনি নিহত হন।
পরবর্তীতে ইমতিয়াজকে ‘জুলাই শহীদ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া ও জুলাই ফাউন্ডেশন থেকে অর্থ গ্রহণ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করেন। এর পর সরকারি সহায়তা বন্ধ হয়ে যায়। মৃত্যুর প্রায় ৯ মাস পর ইমতিয়াজের বাবা ৫৭ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চাটখিল উপজেলার প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম রনি বলেন, যাচাই-বাছাইয়ে ইমতিয়াজের নাম কোথাও পাওয়া যায়নি। তার পরও কীভাবে তিনি শহীদ হিসেবে গেজেটভুক্ত হলেন, তা তদন্তসাপেক্ষ।
তৎকালীন চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দীন বলেন, যাচাই-বাছাই শেষে ইমতিয়াজ শহীদের স্বীকৃতির মানদণ্ডে পড়েননি। তাই তার নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এদিকে ইমতিয়াজের বাবা হাবিবুর রহমানের দাবি, তার ছেলেকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
চাটখিল থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল মোন্নাফ জানান, আদালতের নির্দেশে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহাদত হোসেন বলেন, দীর্ঘ সময় পার হওয়ায় কেবল হাড়গোড় ও খুলি পাওয়া গেছে।