নোয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:০৩ পিএম
আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:১১ পিএম
সারাদেশের মতো নোয়াখালীতেও শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগ। এতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। ঠান্ডা-কাশি, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও ভাইরাল ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে অসংখ্য শিশু। এতে শিশুদের পাশাপাশি চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন তাদের অভিভাবকরাও।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে সরেজমিন হাসপাতালের শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ড
ঘুরে দেখা যায়, শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক। অনেক ক্ষেত্রে একটি শয্যায় দুই শিশুকে
রাখতে হচ্ছে।
নোয়াখালীর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে গত তিন মাসে (অক্টোবর,
নভেম্বর ও ডিসেম্বর) মোট ৫৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা
নিয়েছে ৩৯৩৮ জন শিশু।হাসপাতাল সূত্র জানায়, নিহত শিশুদের অধিকাংশই ঠান্ডাজনিত ও সংক্রমণজনিত
রোগে আক্রান্ত ছিল।
তৃতীয় তলার শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি চারমাস বয়সি শিশু আলাউদ্দিন শিহাব।
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা থেকে আসা শিশুটির রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কম থাকায় নেবুলাইজেশন
দেওয়া হচ্ছে। হাতে ক্যানুলা লাগিয়ে চলছে স্যালাইন ও ইনজেকশন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত তিন মাসে হাসপাতালে বিভিন্ন রোগে ৫৭
জন শিশুর মৃত্যু হয়। যার মধ্যে অক্টোবর মাসে মারা যান ২৩ জন শিশু, নভেম্বর মাসে
১৬ জন শিশু ও ডিসেম্বর ১৮ জন শিশু। এদের অধিকাংশই ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে মৃত্যু হয়েছে।
অক্টোবর মাসে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে ১৩৭৬ জন শিশু, নভেম্বর মাসে ভর্তি হয়ে
চিকিৎসা নিয়েছে ১৪৭৫ জন শিশু ও ডিসেম্বর মাসে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে ১০৮৩ জন শিশু।
প্রতিদিন শিশু ওয়ার্ডে ৪০/৫০ জন ভর্তি হয় বলে জানা গেছে।
শিশু ওয়ার্ডের ইনচার্জ ও সিনিয়র স্টাফ নার্স রোকেয়া বেগম বলেন, শিশু
রোগীদের সেবা দিতে অনেক বেশি সময় ও মনোযোগ লাগে। কিন্তু আমাদের নার্স সংকট রয়েছে। কখনো
একটি শিশু গুরুতর হলে একজন নার্সকে শুধু তার পেছনেই থাকতে হয়। এখানে আরও নার্স খুব
প্রয়োজন।
শিশু বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. ইয়াকুব আলী মুন্সি বলেন, শীত শুরু হওয়ার
পর থেকেই শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। আমরা ভর্তি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা
দিচ্ছি। অধিকাংশ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়। শিশু মৃত্যুর পেছনে শুধু শীত নয়, জন্মকালীন
জটিলতা, সংক্রমণ, নিউমোনিয়া, সেপসিস দায়ী। তবে শীতকালে শিশুদের গরম কাপড় পরানো, ঠান্ডা
বাতাস থেকে দূরে রাখা এবং অসুস্থ হলে দ্রুত হাসপাতালে আনা খুব জরুরি।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, নোয়াখালী একটি জেলা হাসপাতাল হওয়ায় শুধু এ জেলার নয়, আশপাশের একাধিক জেলার রোগীরাও এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। এই বিপুলসংখ্যক রোগীকে মানসম্মত সেবা দিতে বর্তমানে যে সংখ্যক ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছে, তা একেবারেই অপ্রতুল। রোগীর চাপ সামাল দিতে এবং বিশেষ করে শিশু রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে দ্রুত আরও চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া জরুরি। তা না হলে চিকিৎসাসেবার মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।