পিয়াল হাসান রিয়াজ, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:৫৭ পিএম
আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:৪৭ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় এলপি গ্যাস বাজারে চলছে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের দাপট। সরকারি নির্ধারিত মূল্য উপেক্ষা করে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রির পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রাণঘাতী প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে এই চক্রের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের দাবি, গভীর রাতে গ্যাস বিক্রির আড়ালে এই চক্র সরকারি নির্ধারিত মূল্য সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি করছে। একই সঙ্গে এলপিজি সিলিন্ডারের নামে ঝুঁকিপূর্ণভাবে সিএনজি (কম্প্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস) রিফিল করে বাজারজাত করা হচ্ছে, যা জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত সিলিন্ডার পুনরায় রিফিল করে কম ওজন দিয়ে বিক্রি করছে। অনেক ক্ষেত্রে সিল সিস্টেমে কারচুপি করা হচ্ছে এবং বিক্রয় রশিদ ছাড়াই গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, দিনের বেলায় সংশ্লিষ্ট ডিলারদের দোকান ও গুদাম সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে পরিকল্পিতভাবে রাতের আঁধারকে কাজে লাগিয়ে ঢাকা থেকে সিএনজি রিফিল করা গ্যাসবাহী ট্রাক নবীনগরে প্রবেশ করানো হয়। পাশাপাশি গভীর রাতে গোপন স্থানে এসব মানহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়। রাতের বেলায় লেনদেন সম্পন্ন হওয়ায় প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি কার্যত এড়িয়ে যাচ্ছে এই সিন্ডিকেট। ফলে একদিকে সরকারি বিধি-বিধান চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে, অন্যদিকে নবীনগরের হাজারো মানুষের জীবন যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মো. সামিম নামে এক গ্যাস গ্রাহক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, সরকার নির্ধারিত দামে ১২ কেজি এলপিজি গ্যাসের মূল্য ১ হাজার ৩০৬ টাকা হলেও নবীনগরের বিভিন্ন এলাকায় একই গ্যাস ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, নির্ধারিত দামে গ্যাস চাইলে অনেক দোকানি গ্যাস নেই বলে ফিরিয়ে দিচ্ছে। দামাদামি করলেই শুরু হয় নানা অজুহাত ও হয়রানি।
সাইফুল্লাহ সুজন নামে আরেক ভোক্তা বলেন, অনুমোদিত ব্র্যান্ডের এলপিজি গ্যাস ভেবে সিলিন্ডার কিনলেও পরবর্তীতে তা মানহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে সন্দেহ হচ্ছে। এতে একদিকে ভোক্তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে বসুন্ধরা গ্যাসের নবীনগরের ডিলার মো. বাছির প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, গত মাস থেকে তিনি বাজারে কোনো গ্যাস সরবরাহ করতে পারেননি। ফলে বর্তমানে যে গ্যাস বিক্রি হচ্ছে, তা কোথা থেকে আসছে—তা খতিয়ে দেখা জরুরি। কিছু লোভী চক্র ঢাকা থেকে গভীর রাতে গ্যাস রিফিল করে অবৈধভাবে বাজারে ছাড়ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
নবীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নজরে রেখেছি। দিনের বেলায় ডিলারদের খুঁজে পাওয়া কঠিন হলেও দ্রুত অনুসন্ধান চলছে। প্রয়োজন পড়লে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’