সাইফুল ইসলাম, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)
প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:৪৬ পিএম
আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:৫৩ পিএম
উদ্বোধনের তৃতীয় দিনে জমে উঠেছে ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক মেলা ২০২৬’। সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরের পর থেকেই বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এসে মেলার স্টলগুলো ঘুরে দেখেন। মেলায় জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বড়পর্দায় বিভিন্ন প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচল উপশহরে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত মেলায় ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪-এর জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদদের স্মরণে নির্মাণ করা হয়েছে ‘বাংলাদেশ স্কয়ার’। স্মৃতিচারণ ও স্থিরচিত্র প্রদর্শনী দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।
ঢাকার রায়েরবাগ থেকে মেলায় আসা নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আঁখি আক্তার বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে চাই। বাংলাদেশ স্কয়ার পরিদর্শন করে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে অনেক অজানা বিষয় জানলাম।’ কুমিল্লা থেকে আসা দর্শনার্থী আলী হোসেন বলেন, ‘সারা দেশেই জুলাই আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধসহ বাংলাদেশের ইতিহাস তুলে ধরতে এ ধরনের প্রদর্শনীর আয়োজন জরুরি। বাণিজ্য মেলার আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই আমাদের সামনে ইতিহাস তুলে ধরায়।’
জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ স্কয়ারে দায়িত্বে থাকা জানি আলম জাহিদ বলেন, ‘বাণিজ্য মেলায় প্রতিদিনই দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়ছে। আমাদের প্রদর্শনীতে স্মৃতিচারণ করতে দর্শনার্থীরা আসছেন। তারা স্থিরচিত্রগুলো ঘুরে ঘুরে দেখছেন। আশা করা যায় সামনে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বাড়বে। আশা করি আমাদের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রজন্ম ইতিহাস জানতে পারবে।’
এবারের মেলায় পলিথিন ব্যাগ ও সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে হ্রাসকৃত মূল্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ সরবরাহ করা হচ্ছে। মেলায় প্রবেশের জন্য টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা। তবে মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও জুলাই আন্দোলনে আহতরা পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে বিনামূল্যে মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন।
দেশীয় পণ্যের প্রচার, প্রসার ও বিপণনের পাশাপাশি শিল্পোৎপাদন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর যৌথ উদ্যোগে ১৯৯৫ সাল থেকে ৩০ বছর ধরে নিয়মিতভাবে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। তবে গত ৬ বছর ধরে বাণিজ্য মেলার স্থান সরিয়ে আনা হয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জে পূর্বাচলের স্থায়ী ভেন্যু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে। মেলায় রয়েছে ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়ার ১১টি বিদেশি প্যাভিলিয়ন। মেলার লে-আউট প্ল্যান অনুযায়ী বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৩২৪টি প্যাভিলিয়ন/স্টল/রেস্টুরেন্ট ও দেশীয় উৎপাদক-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানসহ সাধারণ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।