খুলনা অফিস
প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:৪৩ পিএম
আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:৫৫ পিএম
সুন্দরবনের মোংলার শরকির খাল এলাকায় হরিণ শিকারিদের পাতা ফাঁদ থেকে উদ্ধার করা বাঘটির অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে বন বিভাগ। সোমবার (৫ জানুয়ারি) গাজীপুর সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি অফিসার হাতেম সাজ্জাত মো. জুলকার নাইন এ তথ্য জানান। খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে বাঘটির চিকিৎসা করছেন তিনি।
এর আগে গত রবিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ‘ট্রানকুইলাইজার গান’ দিয়ে ইনজেকশন পুশ করে অচেতন করে বাঘটিকে ফাঁদ থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে বাঘটি খাঁচায় বন্দি করে খুলনা বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন কেন্দ্রে আনার পর সেখানেই শুরু হয়েছে চিকিৎসা।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া বাঘটি ৪ থেকে ৫ দিন ধরে ফাঁদে আটকা ছিল। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ফাঁদে আটকে থাকার কারণে তার বাম পায়ে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। গত শনিবার দুপুরের পর বন বিভাগের কাছে খবর আসে মোংলার শরকির খাল দিয়ে আধা কিলোমিটার ভেতরে হরিণ শিকারের ফাঁদে একটি বাঘ আটকা পড়েছে। এরপর বন বিভাগ ও খুলনার বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তারা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। এ ছাড়া বাঘটি উদ্ধারের জন্য রবিবার বিকালে ঢাকার বিশেষজ্ঞ দলের সঙ্গে উপস্থিত হন ভেটেরিনারি অফিসার হাতেম সাজ্জাত মো. জুলকার নাইন।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারী স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির বলেন, বাঘটি পানিশূন্য অবস্থায় ছিল। বাম পায়ে ফাঁস লেগে রক্তনালি বন্ধ হয়ে কোষ পচে গেছে। শরীরে মাংসের পরিমাণ কম, চর্বি নেই এবং দীর্ঘদিন অভুক্ত থাকার কারণে প্রচুর ডিহাইড্রেশন দেখা দিয়েছে। বাঘটি অসুস্থ হয়ে পড়ায় তার শরীরে ওষুধ ও স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে।
হাতেম সাজ্জাত মো. জুলকার নাইন বলেন, আমাদের প্ল্যান অনুযায়ী আমরা উদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গে বাঘটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি। উদ্ধারের পরই আমরা প্রায়োরিটি বেসিস একটি আইভি স্যালাইন দিতে চেয়েছিলাম কিন্তু উৎসুক জনতার কারণে আমরা আমাদের কার্যক্রম সঠিকভাবে করতে পারিনি। বাঘটি এখন আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে। খুলনায় বসেই চিকিৎসা দেওয়া হবে। তবে আমরা হাল ছাড়ছি না, আশা করি বাঘটি সুস্থ হয়ে যাবে।