মির্জাগঞ্জ
কামরুজ্জামান বাঁধন, মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী)
প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৪১ পিএম
আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৫০ পিএম
পায়রা নদীর একটি শাখা শ্রীমন্ত নদ। চার বছর আগে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের মহিষকাটা বাজারের পূর্ব পাশে শ্রীমন্ত নদের ওপর মহিষকাটা-আন্দুয়া কলাগাছিয়া সংযোগকারী সেতুটি ভেঙে পড়ে।
এতে উপজেলা শহরের সঙ্গে সেতুর পূর্বপাশের ৬টি গ্রামের মানুষের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিনেও সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ না নেওয়ায় চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে দুর্ভোগের রয়েছে স্থানীয়রা। সেতুটি ফের নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
চার বছর আগে এক রাতে ২টি অটোরিকশাসহ সেতুটি নদে ভেঙে পড়ে। এ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই আইয়ুব আলী নামে এক ব্যক্তি মারা যান। গুরুতর আহত হন ১৪-১৫ জন।
এদিকে মহিষকাটা বাজার থেকে দক্ষিণ দিকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে ঝাটিবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন শ্রীমন্ত নদের ওপর সেতু নির্মাণ হলেও এখনও এ এলাকা মানুষকে মহিষকাটা বাজার, মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের কলাগাছিয়া গ্রামসহ আরও ৬টি গ্রামের মানুষকে খেয়া নৌকার ওপর ভরসা করেই চলতে হচ্ছে।
জানা গেছে, উপজেলার মানুষের যোগাযোগ সহজ করতে ২০০৩-০৪ অর্থবছরে শ্রীমন্ত নদের ওপর মহিষকাটা-আন্দুয়া কলাগাছিয়া সংযোগ দীর্ঘ ৯০ মিটার সেতুটি নির্মাণ করে এলজিইডি।
গত শনিবার সরেজমিন দেখা যায়, শ্রীমন্ত নদের মধ্যে সেতুর কোনো চিহ্ন নেই। মহিষকাটা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিজু খান জানান, সেতু ভেঙে যাওয়ায় কয়েকটি গ্রামের মানুষের প্রায় ৩-৪ কিলোমিটার পথ ঘুরে চলতে হয়। এতে তাদের অর্থ ও সময়ের অপচয় হচ্ছে। নদের পূর্ব পাশের মানুষ এখন খেয়া নৌকায় যাতায়াত করছে। এতে উপজেলা শহরে যেতে মানুষের ভোগান্তি পোহাতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান, আবুল কালাম ও ছিদ্দিক আকন বলেন, মহিষকাটা বাজারে যাওয়া-আসা করতে নৌকাই ভরসা। রাত ৮-৯টার পরে নৌকা বন্ধ থাকে। জরুরি প্রয়োজনে মহিষকাটা বাজারে যেতে হলে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে ঝাটিবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন শ্রীমন্ত নদের ওপর সেতু পার হয়ে মহিষকাটা বাজারে যেতে হয়।
এ ছাড়া কৃষকরা উৎপাদিত শস্য (কাঁচা তরকারি) মহিষকাটা বাজারে নিতে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, শ্রীমন্ত নদের ওপর সেতুটি অনেক আগেই ভেঙে পড়েছে। ইতোমধ্যেই এলজিইডির পিডি স্যার ওই স্থানটি দেখেছেন। নতুন সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ হলেই সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে।