গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৩৫ পিএম
‘কোমরে ব্যাথা, গলায় কাশ। হারা র্যাতে একফোডাও গুমাইত হারি নাই। দমডা উঠে আর নামে। ই লাইগ্যা ডাক্তার দেখাইতে আইছি।’ কথাগুলো বলছিলেন ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের সিংজানী গ্রামের বয়োবৃদ্ধ ফুলজান বেওয়া (৭৪)।
তিনি আরও জানান, ‘ডাকতর আম্মা তো আছুইন। এইল্যাই তো আমরার বড় ডাক্তার (ফার্মাসিস্ট)।’ এ চিত্রের দেখা মিলে উপজেলার ডৌহাখলা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে।
সরেজমিন দেখা যায়, বেলা ১১টার মধ্যেই রোগীদের দীর্ঘলাইন, তবে তখনও হাসপাতালে নেই ডাক্তার, নেই মিডওয়াইফ ও উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, কেন্দ্রের পিয়নও। আছেন একমাত্র ফার্মাসিস্ট রোকিয়া আক্তার। যিনি নিজেই এ কেন্দ্রের দরজা খুলেন আবার তিনিই বন্ধ করেন। এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মিডওয়াইফ মায়মুনা আক্তার প্রেষণে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
দীর্ঘলাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সিংজানীর রহিমা খাতুন জানান, তিনিও এসেছেন কোমর ব্যাথা নিয়ে। লাইনে দাঁড়ানো সিংজানীর খাদিজা খাতুন, হাওয়া বেগম, মরিয়ম আক্তার, মুর্শিদা আক্তার, তকপুরের আনোয়ারা খাতুন, জোলেখা আক্তারের সঙ্গে কথা হয়।
তারা বলেন, একজন মানুষ দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এখানে ডাক্তার নাই, ডাক্তার দেন। এ যেন চিকিৎসা সেবার নামে সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা চলছে।
ফার্মাসিস্ট রোকিয়া আক্তার জানান, রোগী এসেছে প্রায় ২০০ জন। গতকাল (মঙ্গলবার) ছিল ১৬৮ জন, ১৭ নভেম্বর ২০১ জন, ১৬ নভেম্বর ১০৪ জন ও ১৫ নভেম্বর ১৩৮ জন। অক্টোবর মাসে এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে সেবা নেন ২ হাজার ৫৪০ জন ও সেপ্টেম্বর মাসে চিকিৎসা নেন ২ হাজার ৬৭৭ জন।
অন্যদিকে উপজেলার রামগোপালপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে শুধু আছেন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মোছা. আনোয়ারা বেগম। তিনিই এ হাসপাতালের ডাক্তার, পিয়ন, ফার্মাসিস্ট ও মিডওয়াইফের কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন।
চিকিৎসা নিতে আসা শ্রীধরপুরের আয়েশা আক্তার, নওয়াব আলী, গোপীনাথপুরের সুলতান মিয়া, গাঁও রামগোপালপুরের রাজিব হোসেন, ঝরনা আক্তার, আছমা আক্তার, ময়নার মা, বেরাটির ফুলজান, বিশ্বনাথপুরের কিতাব আলীÑ তারা এ হাসপাতালে ডাক্তার আছেন জানেন না। এ আনোয়ারা আপাই তাদের একমাত্র ডাক্তার। রামগোপালপুরের আইনুল হোসেন বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নেই। মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
জনবল সংকটে স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. দিবাকর ভার্ট বলেন, উপজেলা হাসপাতালেই লোকবল সংকট। উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো আরও তীব্র সংকট রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।