জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:৪৪ পিএম
আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:০০ পিএম
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। ইতোমধ্যেই রাক্ষুসে এই নদীর করাল গ্রাসে বসতবাড়ি, গ্রামীণ জনপদ, ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজার, রাস্তাঘাট ও অসংখ্য গ্রাম বিলীন হয়ে গেছে।
অনেকে ভিটামাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। এদিকে নতুন করে আবারও নদীভাঙন শুরু হওয়ায় আতঙ্কে আছেন স্থানীয় লোকজন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার রানীগঞ্জ, আশারকান্দি ও পাইলগাঁও ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কুশিয়ারা নদীর তাণ্ডবে দিন দিন মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। ইতোমধ্যে নদীর ভাঙনে অনেক প্রাচীন জনপদ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। নদীভাঙন রোধে মাঝেমধ্যে সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেলেও সামান্য কাজ করে অর্থ লুটপাট করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাম্প্রতিককালে রানীগঞ্জের বালিশ্রী গ্রামের যাতায়াতের প্রধান গ্রামীণ সড়কটি ভাঙনের মুখে পড়েছে। দ্রুত ভাঙন রোধের পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। সম্প্রতি ভাঙন রোধে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে ১৭ গ্রামের মানুষ মানববন্ধন করেছেন।
বালিশ্রী গ্রামের আশরাফুল হক বলেন, আমাদের ইউনিয়নের ১৭টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা হচ্ছে বালিশ্রী সড়ক। বর্তমানে সড়কটি নদী ভাঙনের মুখে পড়েছে। দ্রুত ভাঙন রোধ করা না গেলে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে যোগাযোগ ব্যবস্থা। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের আমলে কুশিয়ার নদীভাঙনে সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেলেও যত সামান্য কাজ করে অর্থ লুট করা হয়েছে।
গ্রামের ইয়াবর মিয়া বলেন, রাক্ষুসে কুশিয়ারা নদীর তাণ্ডবে ইতোমধ্যে আমার ১২ বিঘা জমি বিলীন হয়ে গেছে। হারিয়েছি বসতভিটাও। এখন নতুন এলাকায় আশ্রয় নিয়েছি। নতুন করে গ্রামীণ সড়কে ভাঙনে শুরু হওয়ায় আতঙ্কে আছেন এলাকার লোকজন।
রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছদরুল ইসলাম জানালেন, বহুকাল ধরে কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে রানীগঞ্জ, আশারকান্দি ও পাইলগাঁও ইউনিয়নের অসংখ্য রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, মসজিদ, মন্দির, রাস্তাঘাটসহ ফসলি জমিসহ অনেক প্রাচীন নির্দশন বিলীন হয়ে গেছে।
গ্রামের পর গ্রাম ভাঙনে বিলীন হয়ে মানচিত্র থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। নতুন করে কিছু এলাকায় আবার ভাঙন শুরু হওয়ায় দুঃশ্চিন্তায় আছেন মানুষজন।
উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের আঞ্চলিক কার্যালয়ের দায়িত্বরত উপসহকার প্রকৌশলী সবুজ কুমার শীল জানান, ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের পদক্ষেপের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।