নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:১৯ পিএম
আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:৫২ পিএম
একসময় গ্রামবাংলার কৃষিকাজে প্রধান ভরসা ছিল গরু ও লাঙল দিয়ে হালচাষ। আধুনিক প্রযুক্তির বিস্তারে সেই ঐতিহ্যবাহী চাষ পদ্ধতি এখন প্রায় বিলুপ্ত। মোরগ ডাকা ভোরে গরু, লাঙল ও জোয়াল কাঁধে কৃষকদের মাঠে যাওয়ার দৃশ্য এখন আর দেখা যায় না।
শুধু আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে জমি চাষের কারণে গরুর হালচাষ নির্ভর অনেক কৃষক পেশা পরিবর্তনে বাধ্য হয়েছেন।
কৃষক জানান, লাঙল দিয়ে জমি হাল চাষে গভীর অংশ আলগা হতো, গরুর পায়ে কাদা তৈরি এবং গোবর পড়ে যেমন একদিকে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পেত, অপরদিকে শত শত কৃষক পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করত। অথচ বর্তমানে আধুনিক যন্ত্র ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলারের মাধ্যমে অল্প সময়ে জমি চাষ সম্ভব হওয়ায় কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী গরুর হাল চাষ ছেড়েই দিয়েছেন।
নন্দীগ্রাম উপজেলার সিধইল গ্রামের কৃষক আব্দুস সামাদ ও জাহেদ আলী বলেন, শৈশবে হালচাষ করেই বড় হয়েছি। তখন বাড়িতে কয়েক জোড়া বলদ গরু-মহিষ, কাঠের লাঙল আর বাঁশের জোয়াল ছিল। সেই দৃশ্য আর নেই।
উপজেলা কৃষি অফিসার মো. গাজীউল হক বলেন, গরু ও লাঙল ছিল পরিবেশবান্ধব ও ঐতিহ্যবাহী কৃষিকাজের হালচাষ পদ্ধতি। তবে আধুনিক প্রযুক্তি মাধ্যমে কম সময়ে হালচাষ, কাটা, মাড়াইসহ সকল ক্ষেত্রে দ্রুত কার্য সম্পাদনের মাধ্যমে কৃষকের উন্নতি সাধিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে কৃষিতে আরও প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তন আসবে। সুতরাং আধুনিকতার স্রোতেই হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার গরু ও লাঙল দিয়ে হালচাষের বহু বছরের চিরচেনা ঐতিহ্য।