শরীয়তপুর সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:২৪ পিএম
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে শরীয়তপুরের ডামুড্যার খোকন দাসের পরিবার এখন দিশাহারা। ছোট তিন সন্তানকে নিয়ে আগামী দিনগুলো কীভাবে চলবে তাদের সংসার সেই দুশ্চিন্তায় নিহতের পরিবারের সদস্যরা।
একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে শোকে কাতর বাবার আর্তনাদ, আমরা পথে বসে গেছি। ছেলের আয়েই চলত সংসার। এখন সে নাই, এতগুলো মানুষ নিয়ে আমি কোথায় দাঁড়াব। কীভাবে সামনের দিনগুলো পাড়ি দেব জানি না। আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে, আমি তাদের বিচার চাই।
এদিকে খোকন দাসকে ছুরিকাঘাত ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেনÑ উপজেলার কনেশ্বর এলাকার বাবুল খানের ছেলে সোহাগ খান (২৭), সামছুদ্দিন মোল্যার ছেলে রাব্বি মোল্যা (২১) এবং শহীদ সরদারের ছেলে পলাশ সরদার (২৫)। খোকন দাসের বক্তব্যের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
খোকন দাসের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস বলেন, তার তিন মেয়ে আর এক ছেলে। তিন মেয়ের অনেক আগেই বিয়ে হয়ে গেছে। খোকন দাস তিলই বাজারে একটি ওষুধের দোকানের পাশাপাশি বিকাশ এজেন্টের কাজ করতেন। তার আয়েই চলত সংসার। খোকনের স্ত্রী সীমা রানী দাস গৃহিণী। তাদের তিন ছেলে আকাশ চন্দ্র দাস (১৫), বিকাশ চন্দ্র দাস (১০) এবং আদর চন্দ্র দাস (৫)।
তিনি আরও বলেন, একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে আমরা পথে বসে গেছি। সেই তো দোকানটা চালিয়ে কোনোরকমে সংসারটা ধরে রেখেছিল। এখন সে নাই, দোকান বন্ধ হয়ে যাবে। এতগুলো মানুষ নিয়ে আমি সামনের দিনগুলো পাড়ি দেব জানি না। আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই।
পুলিশ ও স্বজনরা জানান, গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে ছুরিকাঘাতের শিকার হন খোকন দাস। এ সময় তিনি হামলাকারীদের চিনে ফেললে তার শরীর পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তার ক্ষতস্থানে অস্ত্রোপচার করা হয়। তার শরীরের ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল বলে জানিয়েছে চিকিৎসক। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন দিন পর গত শনিবার সকালে খোকন দাস মারা যান। পরে ছেলে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা করেন নিহতের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস। এদিকে, খোকন দাসের হত্যায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।