শফিক সরকার, ময়মনসিংহ
প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:২০ পিএম
আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:২৯ পিএম
শরীর সুস্থ রাখতে প্রতিদিন খুব ভোরে হাঁটতে বের হন অনেক মানুষ। এই অভ্যাস ময়মনসিংহ নগরবাসীর মাঝেও এখন বেশ চোখে পড়ার মতো। ভোরের আলো ফোটার আগেই নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বিভিন্ন বয়সের মানুষ ছুটে যান নগরীর ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে অবস্থিত শিল্পাচার্য জয়নাল আবেদীন পার্ক এলাকায়।
শীতল হাওয়া আর নদীর পাড়ের মনোরম পরিবেশে হাঁটা শেষে বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠেছে শীতের বাহারি
পিঠা। হাঁটতে আসা মানুষজন ক্লান্তি কাটাতে ও ভোরের ক্ষুধা মেটাতে ভিড় করছেন পিঠার দোকানগুলোতে।
ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়জুড়ে বসেছে ভাপা, কুলি, চিতইসহ নানা রকম ঐতিহ্যবাহী শীতের পিঠার
পসরা। কেউ কেউ আবার পরিবারের জন্য পিঠা কিনে নিয়েও যাচ্ছেন। এই কনকনে ঠান্ডাকে উপেক্ষা
করে প্রতিদিন অসংখ্য নারী-পুরুষ ছুটে আসেন এই ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে। খুব ভোরে শিশু
ও বয়স্ক মানুষকেও দেখা যায় হাঁটাহাঁটি করতে।
হাঁটতে আসা কৃষিবিদ নজরুল ইসলাম বলেন, নিয়মিত হাঁটতে আসা মানুষ সকালে হাঁটার পাশাপাশি
এই পিঠার স্বাদ তাদের দিনটিকে আরও আনন্দময় করে তোলে। তিনি বলেন, ঘরে তৈরি এসব পিঠায়
রয়েছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও স্বাদের ছোঁয়া।
ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে প্রতিদিনই বসে ২০টিরও বেশি পিঠার দোকান। কার্যত এটি এক ধরনের
পিঠার হাটে পরিণত হয়েছে। এসব দোকানের অধিকাংশই পরিচালনা করছেন নারী বিক্রেতারা। পিঠা
বিক্রি করে তারা যেমন সংসারে বাড়তি আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন, তেমনি নিজের পরিবারকেও স্বাবলম্বী
করে তুলছেন।
কয়েকজন পিঠা বিক্রেতা বলেন, শীতের এই মৌসুমে পিঠা বিক্রি করে তারা ভালো আয় করছেনÑ যা
সংসারের খরচ মেটাতে বড় সহায়তা দিচ্ছে।
নগরবাসীর প্রত্যাশা- ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ের ঐতিহ্যবাহী শিল্পাচার্য জয়নাল
আবেদীন পার্ক তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সংস্কৃতি ও মানুষের প্রাণচাঞ্চল্য নিয়ে বছরের
পর বছর ধরে টিকে থাকুক।