প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:১৭ পিএম
ঘেরাও কর্মসূচি পালনকালে তাঁতিরা। ছবি: সংগৃহীত
দেশের ৩০ লাখ তাঁতি ও ৬০ লাখ তাঁতশ্রমিকের ৪ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে রবিবার ৪ জানুয়ারি তাঁতবোর্ড ঘেরাওসহ সারাদেশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে তাঁতিরা।
দুর্নিতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের অপসারণ এবং সূতা রং রাসায়নিক আমদানি অব্যাহত রাখার দাবিতে সারাদেশের তাঁতিরা এই কর্মসূচি পালন করে।
ঘেরাও কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তাঁতি নেতারা বলেন, এর আগে তাঁতবোর্ডের সহায়তায় সুতা, রং ও রাসায়নিক আমদানি করে স্বস্তিতে ব্যাবসা করতেছিল তাঁতিরা। কিন্তু তাঁতবোর্ড গত দেড় বছরে তাদেরকে এসব আমদানি সুপারিশ করেনি। ফলে খোলা বাজারে এসবের মূল্য দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে যে কাপড়টি তৈরি করতে খরচ হত ৫০০ টাকা সেটি এখন তৈরি করতে খরচ হচ্ছে এক হাজার টাকা। এ কারণে দেশের অধিকাংশ তাঁত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে হাজার হাজার তাঁত শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ছে। এভাবেই এখন তাঁতশিল্প এখন ধ্বংসের পথে।
তারা বলেন, নতুনভাবে বাংলাদেশ জাতীয় তাঁতি সমিতি অনুমোদনের পর কোন সুপারিশের মালামাল আমদানি বা বণ্টন কোন কিছুই প্রদান করা হয়নি। শুধু জটিলতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। ফলে দেশের তাঁতিরা প্রতিদিন লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এক সময় বাংলাদেশের তাঁতশিল্প বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
তারা আরও বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক জারিকৃত নতুন এসআরও নং ২০০-আইন/২০২৪/৫২ কাস্টম্স,তারিখ ১৯,৫,২০২৪ইং এর মাধ্যমে যে শর্তারোপ করা হয়েছে সেই শর্ত সম্পূর্ণ পরিপালন করেই তাঁতিরা মালামাল আমদানি করে আসছে। এর বাইরে কোন নতুন শর্ত সাধারণ তাঁতিরা মানতে রাজি নয়। কৌশলে বিতর্কিত তাঁতবোর্ডের কর্মকর্তারা তাঁতিদের স্বার্থবিরোধী মতামত মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। এদিকে ঢাকার মিরপুরে ৪০ একর জায়গার ওপর তাঁতিদের পূনর্বাসনের জন্য বেনারসিপল্লি ভাষানটেক প্রকল্প তাঁতবোর্ড কর্তৃক তাঁতিদের পূনর্বাসন না করে ৪০ বছর ধরে ঝুলে রাখা হয়েছে। এ সমস্যা অবিলম্বে সমাধান করতে হবে।
তাঁতবোর্ড ঘেরাও কর্মসূচি পালনকালে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মো. আশরাফ আলী। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থানা মাধ্যমিক তাঁতি সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, বেনারশিপল্লি মিরপুরের সাধারণ সম্পাদক মো. কাশেম, মিরপুর ২নং ওয়ার্ড প্রাথমিক তাঁতি সমিতির সাবেক সভাপতি শামিম আক্তার সিদ্দিক, মিরপুর ৩নংওয়ার্ড প্রাথমিক তাঁতি সমিতির সাবেক সভাপতি আবু হানিফ মোল্লা, মিরপুর ৫নংওয়ার্ড প্রাথমিক তাঁতি সমিতির সাবেক সভাপতি মো. রফিক, মিরপুরের তাঁতি নেতা, আবুল কালাম, শাহজাদপুর পৌরসভা ৬ নং প্রাথমিক তাঁতি সমিতির সদস্য মোহাম্মদ আশরাফ আলী,উল্লাপাড়া দুর্গানগর ইউনিয়ন ৯ নম্বর ওয়ার্ড প্রাথমিক তাঁতি সমিতির সদস্য মোঃ ইউসুফ আলী, সিরাজগঞ্জের সায়দাবাদ ইউনিয়ন
২ নং ওয়ার্ড প্রাথমিক তাঁতি সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল গনি মোল্লা, বেলকুচির ভাঙ্গা বাড়ি ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড প্রাথমিক তাঁতি সমিতির সভাপতি হাজী মো. গোলাম মাওলা ও টাঙ্গাইলের কালিহাতীর তাঁতি প্রতিনিধি মোহাম্মদ আব্দুল গনি।
যে ৪ দফা দাবিতে তাঁতিরা তাঁতবোর্ড ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে সে দাবিগুলো হচ্ছে-
১. আওয়ামী দোসর খ্যাত কর্মকর্তা দ্বারা চলমান এস আর ও নং-২০০ তাং-২৯/০৫/২০২৪ বন্ধের অপতৎপরতা এবং পাঁয়তারা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
২.বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের বিতর্কিত মেম্বার এবং ডিজিএম কর্তৃক অবৈধ হস্তক্ষেপের ফলে তাঁতিদের আমদানি সুপারিশ বন্ধের অলিখিত নির্দেশ প্রত্যাহার করে অবিলম্বে তাঁতিদের আমদানি সুপারিশ চালু করতে হবে।
৩. তাঁতিদের স্বার্থবিরোধী, অযোগ্য তাঁত বোর্ডের মেম্বর দেবাশীষ নাগ এবং ডিজিএম রতন চন্দ্র সাহার অপসারণ করতে হবে।
৪. চল্লিশ (৪০)বছর ধরে ঝুলে রাখা মিরপুরের বেনারসি ভাষানটেক প্রকল্পে তাঁতিদের দ্রুত পূর্নবাসন করতে হবে।