চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৫৪ পিএম
আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৫৯ পিএম
নগরবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যা স্থায়ীভাবে দূর করতে এবার পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগের কথা জানালেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। অস্থায়ী ব্যবস্থার বদলে টেকসই সমাধান নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই নগরজুড়ে খাল খনন, ড্রেন উন্নয়ন ও দখল উচ্ছেদ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম
নগরীর মোজাফফর নগরের মীর্জা খাল পরিদর্শন করেন মেয়র। পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেন মেয়র।
এ সময় তিনি খালের বর্তমান অবস্থা, পানি প্রবাহ, দখল ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সরাসরি পর্যবেক্ষণ
করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
মেয়র বলেন, এ বছর বর্ষা মৌসুমে আগের
তুলনায় নগরীর জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমেছে। তবে কিছু এলাকায় চলমান জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের
কাজের কারণে সাময়িকভাবে পানি জমেছে। বিষয়টি বুঝতে আমি নিজেই পানিতে নেমে নালা পরিষ্কার
করেছি, সমস্যার উৎস খুঁজেছি। পরিষ্কারের পরও যখন পানি উঠেছে, তখন স্পষ্ট হয়েছে-
এটি
টেম্পোরারি সমাধানে সম্ভব নয়, এখানে পারমানেন্ট সলিউশন প্রয়োজন।
স্থায়ী সমাধানের প্রসঙ্গে তিনি জানান,
স্থায়ী সমাধানের অংশ হিসেবে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেডের মাধ্যমে নগরীর ৩৬টি
খাল খননের কাজ চলমান রয়েছে। এই প্রকল্পের আওতার বাইরে থাকা খালগুলোর সংস্কার ও খননের
বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম
সিটি কর্পোরেশন নিজস্ব উদ্যোগে বাকি খালগুলো খনন ও পুনঃসংস্কারের কাজ বাস্তবায়ন করবে।
মেয়র আরও বলেন, চসিকের উদ্যোগে
নগরীর প্রায় ১,৬০০ কিলোমিটার ড্রেন উন্নয়ন করা হচ্ছে। এসব প্রকল্প পুরোপুরি বাস্তবায়িত
হলে পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সক্ষমতা বাড়বে এবং চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে
নিরসন হবে।
খাল দখল প্রসঙ্গে মেয়র বলেন,
খাল দখল করে কেউ পার পাবে না। খাল নগরীর প্রাণপ্রবাহ। যেসব স্থানে অবৈধ দখল রয়েছে,
সেগুলোর অনেক উচ্ছেদ করা হয়েছে। বাকিগুলোও চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা
নেওয়া হবে। নগরীর স্বার্থে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
খাল ও নালায় বর্জ্য ফেলার বিষয়ে মেয়র
জানান, খাল ও নালায় ময়লা ফেলা জলাবদ্ধতার অন্যতম প্রধান কারণ। শুধু সিটি কর্পোরেশনের
একার পক্ষে এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। নগরবাসীকে সচেতন হতে হবে। যেখানে-সেখানে বর্জ্য
ফেললে উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হবে এবং জলাবদ্ধতা পুনরায় ফিরে আসবে।
পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের
প্রকৌশল ও পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।