সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:৫২ পিএম
আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:০২ পিএম
‘প্রযুক্তি ও মমতায়, কল্যাণ ও সমতায়, আস্থা আজ সমাজসেবায়’Ñ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে জাতীয় সমাজসেবা দিবস পালিত হয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সিংগাইর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
এদিন সকাল ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে পৌর শহরের ভাষা শহীদ রফিক সড়ক প্রদক্ষিণ করে একইস্থানে এসে শেষ হয়। পরে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পরে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. মঞ্জুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খায়রুন্নাহার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তর দেশের পিছিয়ে পড়া, দরিদ্র, অবহেলিত ও অসহায় দুস্থ মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রযুক্তিনির্ভর সেবা কার্যক্রমের ফলে সমাজসেবার আওতাভুক্ত মানুষ এখন দ্রুত সেবা পাচ্ছেন। সমাজসেবা কার্যক্রমে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণও জরুরি। সমাজসেবা কার্যক্রমে প্রযুক্তির পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি অপরিহার্য। মানবিক মূল্যবোধ, সহমর্মিতা ও সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তর সমাজের অসহায় মানুষের জন্য নিরলসভাবে কাজ করছে। বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও এতিমদের জন্য পরিচালিত বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রযুক্তি ও মমতায়, কল্যাণ ও সমতায়, আস্থা আজ সমাজসেবায়, প্রতিপাদ্যটি বৈষম্যহীন কল্যাণরাষ্ট্র গঠনের পথনির্দেশনা দেয় বলে জানান তিনি।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসার ডা. সাজেদুল ইসলাম, থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার সৈয়দ ইমতিয়াজ আহমেদ ও উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুজন আলম।
তারা বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে প্রযুক্তির ব্যবহার ও মানবিক মূল্যবোধ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। বৈষম্যমুক্ত ও মানবিক সমাজ গঠনে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।
আলোচনা সভা শেষে পল্লী মাতৃকেন্দ্রের সাতজন সদস্যকে পঞ্চাশ হাজার টাকা করে মোট সাড়ে তিন লাখ টাকা ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করা হয়।
এ সময় উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সমাজকর্মী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।