পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:২৭ পিএম
বাবা-মার সঙ্গে ইমন আলী; ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় তিনি ও তার পরিবার। প্রবা ফটো
রাজশাহীর পুঠিয়ায় এক চা বিক্রেতার ছেলে ইমন আলী এবার (২০২৫-২৬ সেশন) মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় চান্স পেলেও টাকার অভাবে এখনও ভর্তি হতে পারেননি।
ইমন এবারের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় ৫৬৪৫ জনের মধ্যে সে ৬৮৬ তম স্থান অর্জন করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।
ইমন উপজেলার ধোপাপাড়া মোহনপুর গ্রামের চা বিক্রেতা আজিজের ছেলে।
ইমন ধোপাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ধোপাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় হতে এইচএসসিতে রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ হতে পড়াশোনা করে। ইমনের ছোট বোন আশা খাতুন ১০ শ্রেণীতে পড়ছে। চা বিক্রি করে দুই ছেলে-মেয়ের পড়াশোনা ও সংসার চালাতে দারুণ রকম হিমশিম খাচ্ছেন আজিজ।
ইমনের চা দোকানি পিতা বলেন, আমি সামান্য চা-বিস্কুট বিক্রি করে সংসার চালাই। আমার ছেলেকে খুব কষ্ট করে পড়ার খরচ দিয়েছি। এনজিওর কিস্তি তুলে চা বিক্রি করে তার পরীক্ষার টাকা দিয়েছি। এখন ছেলেকে এমবিবিএস পড়তে মেডিকেলে ভর্তি করা সেই টাকা আমার কাছে নাই। কি হবে আল্লাহই ভালো জানেন।
ছেলের ভর্তি প্রসঙ্গে ইমনের মা বিউটি বেগম বলেন, আমরা ছেলেকে অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করিয়েছি। এখন অনেক টাকার দরকার, কিন্তু সেই টাকা কোথায় থেকে পাবো জানি না। ভর্তি করতে পারবো কিনা জানি না।
শিক্ষার্থী ইমন আলী হকাশার সুরে বলেন, অভাবে বহু দিন গেছে আমি ভাত পায়নি, কলা রুটি খেয়ে স্কুল-কলেজ করেছি। ভর্তি নিয়ে কি করবো জানি না।
ইমনের প্রতিবেশীরা জানান, তাদের কোনো জমাজমি নাই, খুব কষ্ট করে দুই ছেলে-মেয়েকে পড়াচ্ছেন। এমনকি ঋণ-দেনা, কিস্তি এভাবেই চলছেন ওই পরিবার। তাদের এখন সহায়তার খুব দরকার। সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত।
এসব বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার, লিয়াকত সালমান বলেন, টাকার অভাবে কারো পড়াশোনা বন্ধ হবে না। উনি ভর্তি হতে না পারলে, তাকে ভর্তি করানো হবে এবং তার পড়াশোনা চলবে ইনশাআল্লাহ।