× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

উৎপাদন পদ্ধতি উন্নত হলে চিংড়ি উৎপাদন বাড়বে : মৎস্য উপদেষ্টা

খুলনা অফিস

প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:০২ পিএম

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:২৪ পিএম

উৎপাদন পদ্ধতি উন্নত হলে চিংড়ি উৎপাদন বাড়বে : মৎস্য উপদেষ্টা

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার বলেছেন, বিদেশি জাতের দিকে না ছুটে দেশীয় গলদা ও বাগদা চিংড়ির উৎপাদন পদ্ধতি উন্নত করাই হবে আসল কাজ। এতে আমরা চিংড়ি উৎপাদন কয়েক গুণ বাড়াতে পারি।

রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার কৈয়া বাজার এলাকায় একটি বিশেষায়িত গলদা চিংড়ির মৎস্য ঘের পরিদর্শনের সময় এসব কথা বলেন তিনি। পরিদর্শনকালে বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাসহ মৎস্য চাষিরা উপস্থিত ছিলেন। 

উপদেষ্টা বলেন, সমন্বিত ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ছোট ছোট ঘেরেও উল্লেখযোগ্য উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে, যা প্রান্তিক ও দরিদ্র চাষিদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে। মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ডুমুরিয়ার এই ঘের একটি সমন্বিত ক্লাস্টার পদ্ধতির আদর্শ উদাহরণ। এখানে ২৫ জন ঘের মালিক মিলে উন্নত পোনা, নির্দিষ্ট খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে গলদা চিংড়ি ও সাদা মাছ চাষ করছেন। ফলে আগের পদ্ধতির তুলনায় বর্তমান পদ্ধতি অনুসরণ করে এক শতক জমিতে গড়ে ৬-৮ আট কেজি উৎপাদন হচ্ছে। অথচ আগের পদ্ধতিতে উৎপাদন হতো প্রায় দুই কেজি।

পরিদর্শনকালে উপদেষ্টা নিজ হাতে উৎপাদিত গলদা চিংড়ি দেখে খুশি হন। চাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি বলেন, বর্তমান পদ্ধতিতে চিংড়ি উৎপাদন করে লাভের মুখ দেখা যাচ্ছে। এটি শুধু উৎপাদন বাড়াচ্ছে না, দারিদ্র্য দূরসহ সামাজিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখছে।

এই ঘেরগুলোর আইলের ওপর সবজি চাষও কচ্ছে। এতে আমিষ ও সবজির চাহিদা মেটার পাশাপাশি বাড়তি আয় হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ব্যবস্থায় ডুমুরিয়া অনেক বেকার যুবক স্বাবলম্বী হয়েছেন।

মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পটি পাইলট আকারে শুরু হলেও এর সাফল্যের কারণে এটি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তারা জানান, এই সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ছড়িয়ে দেওয়া গেলে গলদা চিংড়ির উৎপাদন তিন থেকে পাঁচ গুণ বাড়ানো সম্ভব।

রপ্তানি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির ক্ষেত্রে উৎপাদন পদ্ধতি ও পরিবেশগত মান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের স্বাস্থ্যসম্মত ও ট্রেসযোগ্য উৎপাদন ব্যবস্থা রপ্তানি আয় বাড়াতে সহায়ক হবে।

মৎস্য বিভাগ আরও জানায়, গত বছর মাছ রপ্তানি থেকে যেখানে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা আয় হয়েছিল। সেখানে চলতি বছরে তা বেড়ে ছয় হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। আয় বাড়ার পেছনে সমন্বিত ও পরিবেশবান্ধব মাছ চাষ ভূমিকা রেখেছে।

পরিদর্শন শেষে উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার বলেন, দেশীয় প্রজাতি ও পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে বিদেশি ভেনামি চিংড়ি চাষ সীমিত পর্যায়ের বাইরে অনুমোদন দেওয়া হবে না। সব মিলিয়ে ডুমুরিয়ার এই সমন্বিত গলদা চিংড়ি চাষ প্রকল্প এখন দেশের মাছের ক্ষেত্রে একটি সফল ও টেকসই মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা