বাগেরহাট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:৪৭ পিএম
আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:২৮ পিএম
বড়দিনসহ টানা ছুটিতে বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদ ও সুন্দরবন দেখতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নানা বয়সের দর্শনার্থীরা প্রাচীন নির্দশন উপভোগ করতে ছুটে আসছেন এখানে। সুন্দরবনের কটকা, করমজল, হারবাড়িয়াসহ ভ্রমণ স্পটগুলোতে নির্মল পরিবেশে বন্যপ্রাণীদের সঙ্গে আনন্দ উপভোগ করছেন পর্যটকরা।
এছাড়া বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদ ও খানজাহান (র.) মাজারসহ বিভিন্ন ভ্রমণ স্পটগুলো আনন্দের সঙ্গে উপভোগ করছেন পর্যটকরা। দেশি-বিদেশি পযর্টকদের সমাগম বেড়েছে কয়েকগুণ।
সকাল থেকেই বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদ দেখতে হাজারো দর্শনার্থীরা ভিড় করে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে, আবার কেউ বা পরিবার পরিজন ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে প্রাচীন নিদর্শন দেখতে আসছেন। অভিভাবকরা সন্তানদের ষাটগম্বুজ সম্পর্কে জানাতে নিয়ে এসেছেন। শিশুরাও বিভিন্ন রাইডে উঠে আনন্দ করছেন।
টানা ছুটিতে অনেকে আবার প্রথমবারের মতো বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদ দেখে ও নামাজ পড়ে প্রশান্তি মনে করছেন। পদ্মাসেতুর চালু হওয়ার পর প্রতিদিন হাজার হাজার দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীরা বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদ ও সুন্দরবনের বিভিন্ন পর্যটন স্পর্ট দেখতে আসছেন। দিনের মধ্যে এসব স্প্ট ঘুরে গন্তব্যে ফিরে যেতে পারছেন। দিন দিন বাড়ছে দর্শনার্থীর সংখ্যাও।
ঢাকা থেকে চাকরিজীবী নিয়ামুল নামের এক দর্শনার্থী বলেন, বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পাওয়া প্রায় সাড়ে ৬শ’ বছর আগে নির্মিত ষাটগম্বুজ মসজিদ বাচ্চারা বইতে পড়েছে। প্রাচীনতম নিদর্শন দেখতে পরিবার পরিজন নিয়ে দেখতে আসছি। পুরো ক্যাম্পাস ঘুরে দেখতে অনেক ভালো লেগেছে। এখানে আবারও আসব।
সুন্দরবনে ঘুরতে আসা সাব্বির আহমেদ বলেন, বড়দিনসহ ৩ দিনের ছুটি পেয়ে বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে সুন্দরবনে চলে এলাম। এখানে এসে অনেক ভালো লাগছে। বিভিন্ন রকম বন্যপ্রাণী দেখলাম। নিজ হাতে হরিণকে গাছের পাতা খাইয়েছি। কাছ থেকেই বানরের লাফালাফি দেখেছি। সুন্দরবনের এই বন্য পরিবেশ দেখে অনেক ভালো লাগছে।
গত শনিবার একদিনে এ মৌসুমের সর্বচ্চো সংখ্যক ৩৮টি জাহাজে করে দুই সহ্রাধিক পর্যটক কটকা পর্যটন কেন্দ্রে এসেছেন। পর্যটকরা কটকায় মায়াবী চিত্রল হরিণের ছোটাছুটি এবং নদী ও খালের চরে কুমিরের রোদ পোহানোর দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন। তা ছাড়া পর্যটকরা কটকার জামতলা সী-বীচে ঘোরাঘুরি এবং কেউ কেউ সাগরের পানিতে গোসল করছেন বলে কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান।
বাগেরহাট প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কাস্টোডিয়ান মো. যায়েদ বলেন, ৩ দিনের টানা ছুটিতে দর্শনীয় স্থান বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদ দেখতে আগের তুলনায় কয়েকগুণ দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী বাড়ায় হিমশিম ক্ষেতে হচ্ছে। বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদ দেখতে ৩ দিনে প্রায় ১০ হাজার দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী আসছেন বলে জানান এই কর্মকর্তা।