সরাইল
সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ২২:২৭ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা শহরে একাধিক ময়লার ভাগাড়ের বিড়ম্বনায় জনজীবন অতিষ্ঠ, শিশু ও বৃদ্ধরা চর্মরোগসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ এসব দেখার কেউ নেই।
উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় ২০০ গজের মধ্যে রয়েছে দুটি ভাগাড়। প্রতিটি ভাগাড়েই কুকুর, বিড়াল, পশুপাখি খাবারের সন্ধানে বিষাক্ত করে তুলছে পরিবেশ। এতে ছড়িয়ে পড়ছে দুর্গন্ধ। স্থানগুলো পরিণত হয়েছে মশা-মাছির অভয়ারণ্যে। এসব ভাগাড়গুলো থেকে খাবার খেয়ে পাখায় আর পায়ে লাগিয়ে চলে যায় নিকটবর্তী বাসা বাড়িতে। বাসিন্দারা মশা-মাছির উপদ্রবে না পারছে খাবারদাবার সংরক্ষণ করতে, না পারছে শিশুদের স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখতে।
নিজসরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সন্নিকটের ভাগাড়টির অসহনীয় দুর্গন্ধে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের নাক চেপে যেতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানে। কোনো কোনো সময় ভাগাড়ে খাদ্যের সন্ধানে থাকা কুকুর, বিড়াল আর পাখিদের ভয়ে শিক্ষার্থীরা থাকে আতঙ্কে। স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আছে সরাইল সদর উচ্চ বিদ্যালয় ও নিজসরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। এ ছাড়াও অন্যরা।
শিক্ষিকা শেফালী ওয়াস্তি জানান, ময়লার পচা দুর্গন্ধে আমাদের শিক্ষক কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীরা মাস্ক পরে না হয় নাক চেপে চেপে ক্লাস পরিচালনা করতে হয়। বর্ষাকাল আর বৃষ্টির দিনে তো পচা গন্ধে ক্লাস করা দুষ্কর হয়ে পড়ে। এ সময় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যায়।
বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবুল মিয়া বলেন, একসময়ে এটা নৌকা ঘাট ছিল আশুগঞ্জ, ভৈরব, পানিশ্বর, অরুয়াইল, পাকশিমুল, নাসির নগর এবং অন্যান্য এলাকা থেকে এই ঘাটে আসত নানা মালামাল। কালের পরিক্রমায় আজ খাল ভরাট করে জায়গা দখলসহ জায়গাটি এখন ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। প্রশাসন বাজারের ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট কোনো স্থান নির্ধারণ না করায় ব্যবসায়ীরা বাজারের ময়লা এখানে ফেলে।
এমনই আরেকটা ভাগাড় রয়েছে সরাইল সদরের নিজসরাইল গ্রামে প্রবেশে প্রধান সড়কের পাশে। এর অবস্থা আরও দুর্বিষহ। বিশেষ করে নিজসরাইলের উত্তরাংশের জনগোষ্ঠী রয়েছে হুমকির মুখে। এলাকায় শিশু, কিশোরদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা রোগের উপসর্গ। দেখা দিয়েছে চর্মরোগ। আক্রান্ত হচ্ছে খোসপাঁচড়া, পেটের নানা পীড়ায়। প্রতিদিন এই পথে ছোটখাটো যানবাহন, পথচারী, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ছাত্রসহ নিজসরাইল, পাঠানপাড়া, জিলুকদার পাড়া, কুট্টাপাড়া, উচালিয়াপাড়া, বড়দেওয়ান পাড়া, ছোট দেওয়ান পাড়ার হাজার হাজার জনতা।
ভুক্তভোগীদের একজন সৈয়দ নৌশের আলী ঝন্টু বলেন, মালিকানা জায়গাটি খালি পড়ে থাকায় এলাকাবাসী, পাড়া-প্রতিবেশী, এলাকার ভাড়াটিয়ারা ময়লা ফেলার অভয়ারণ্য স্থান মনে করে নির্বিঘ্নে ময়লা, পচা-বাসি খাবার ফেলে পরিবেশের চরম বিপর্যয় ঘটাচ্ছে। এলাকার শিশু-কিশোরা আক্রান্ত হচ্ছে একাধিক রোগে। স্যানিটারি ইন্সপেক্টরকে জানালেও এর কোনো প্রতিকার নেই।
আরেকটি ভাগাড় হলো শহরের নিকটে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স এবং ইউনিয়ন পরিষদের মাঝামাঝি। এটিও একটি সরকারি খাসজমি। এই খালি জায়গাটিতে ময়লা ফেলে হচ্ছে। এখানেও কুকুর, বিড়াল, পশুপাখি, আর মশা-মাছির মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। উপজেলা ইউএনও আবু বকর সরকার বলেন, আমি অবগত আছি। ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।