মোরেলগঞ্জ
মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ২২:০৯ পিএম
আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ২২:১৭ পিএম
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে তিন দিন ধরে কনকনে শীত ও হিমেল বাতাসে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিনই বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগী। বৃদ্ধ ও শিশুরা ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। কনকনে শীতে দিনমজুরদের জীবিকায় টান পড়েছে।
সরেজমিন উপকূলীয় উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় তিন দিন ধরে শৈত্যপ্রবাহে মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। দূরপাল্লার নৌ-পরিবহনসহ যাত্রীবাহী বাস চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে। ঘন কুয়াশায় ফেরি চলাচল ২-৩ ঘণ্টা বন্ধ থাকছে। গতাল শুক্রবার বেলা ১১টার পরে সূর্যের আলো দেখা গেছে। শ্রমজীবী মানুষ কাজে জন্য দূরে কোথাও যেতে পারছেন না। এদিকে প্রচণ্ড ঠান্ডায় নদী-তীরবর্তী ছিন্নমূল মানুষ অনেক কষ্টে আছেন।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে ঠান্ডাজনিত রোগে বিশেষ করে ডায়রিয়া, জ্বর, শাসকষ্ট রোগে ১৩ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। এর পূর্বে অনেক রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। তিন দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেÑ ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত জুলবার নাঈম (৮) মাস, ইয়াসমিন (১১) মাস, সানাফ (১০) মাস, জ্বরে আক্রান্ত রমজান (১০) মাস, বৃদ্ধ আয়শা বেগম (৬৫), শিশু বায়জিদ (১১) মাস, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত আব্দুল্লাহ (২৯) দিন, বৃদ্ধ ছুরাতুন নেছা (৬০) শ্বাসকষ্ট রোগে আক্রান্ত, এমিলি বেগম (৬২), সেতারা বেগম (৬০), রোকেয়া বিবি (৫২) কুদ্দুস (৩০) ও ৪ বছরের শিশু রুপাইয়া। এর মধ্যে পাতাবাড়িয়া গ্রামের বৃদ্ধ আশরাফ আলী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। প্রচণ্ড শীতে পানগুছি নদীর তীরবর্তী পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড বারইখালী গ্রামের বৃদ্ধা শেফালী বেগমসহ একাধিক ছিন্নমূল পরিবারের মানুষের দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন।
কথা হয় বৃদ্ধা শেফালী বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ২৫ বছর আগে এ ভিটায় স্বামী মারা গেছেন। ছোট ২টি ছেলে মেয়ে নিয়ে নদীর পাড়ে সে থেকেই বসবাস করছি। কুঁড়েঘরে যাদের জীবন তাদের আবার দুঃখ কিসের। দুদিন ধরে প্রচণ্ড ঠান্ডা বাতাসে না ঘুমিয়ে রাত কাটাচ্ছি।
মোরেলগঞ্জ স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি বলেন, ঠান্ডাজনিত রোগ ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, জ্বর, সর্দিকাশিতে আক্রান্ত হয়ে তিন দিনে হাসপাতালে রোগী বেড়েছে। এখনও ১৩ জন চিকিৎসাধীন। বেশ কয়েকজন রোগী চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়েছি। সে ক্ষেত্রে পরামর্শ হলো ঠান্ডা নিউমোনিয়া প্রতিরোধের জন্য বিশেষ করে গরম কাপড় পরিহিত, গরম খাবার ও বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে।