খুলনা অফিস
প্রকাশ : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ২২:০৭ পিএম
আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ২২:১২ পিএম
চিংড়ি শুধু একটি ব্যবসায়িক পণ্য নয়Ñ এটি দেশের মানুষের জীবন-জীবিকা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এ খাতে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর)
বিকালে খুলনার শ্রিম্প টাওয়ারে বাংলাদেশ হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএফইএ)
আয়োজিত দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মৎস্য সেক্টরের উন্নয়নবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির
বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, ব্যবসা শুধু
নিজের লাভের জন্য করলে চলবে না। দেশ ও মানুষের সেবার মানসিকতা নিয়ে ব্যবসা করতে হবে।
সরকার আইন তৈরি করবে এবং প্রয়োজনে কঠোরভাবে তা প্রয়োগ করবে। তিনি বলেন, চিংড়ি একটি
খাদ্যপণ্য এতে ক্ষতিকর কিছু থাকলে তা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। জেলি
পুশের মতো অনৈতিক কাজের কারণে আমরা আন্তর্জাতিক বাজার হারাচ্ছি। এ বিষয়ে সরকার মনিটরিং
আরও জোরদার করবে বলে জানান তিনি।
ফরিদা আখতার আরও বলেন, বাংলাদেশ
চিংড়ি ও ইলিশের দেশ এই দুই পণ্যই দেশের পরিচয় এবং জিআই (GI) স্বীকৃত। চিংড়ির মান নিয়ে
কোনো আপস হবে না বলে জানান তিনি। নতুন
আইন প্রণয়নের মাধ্যমে চিংড়ি খাতে নারীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে
বলেও জানান উপদেষ্টা। পাশাপাশি হ্যাচারির সংখ্যা বাড়াতে সরকার নীতিগত সহায়তা দেবে এবং
আমদানিনির্ভর ফিস ফিডের পরিবর্তে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় বিএফএফইএর ভাইস-প্রেসিডেন্ট
শেখ কামরুল আলমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক
ড. মো. আবদুর রউফ। এছাড়া বক্তব্য রাখেন বিএফএফইএর প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ শাহজাহান চৌধুরী
এবং সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট মো. তারিকুল ইসলাম জহির। সভায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফএফইএর
পরামর্শক সৈয়দ ইসতিয়াক।
সন্ধ্যায় খুলনার বয়রায় অবস্থিত
মৎস্য পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ দপ্তর এবং কোয়ালিটি কন্ট্রোল ল্যাবরেটরির কর্মকর্তাদের
সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় সভায় মৎস্য উপদেষ্টা বলেন, কোয়ালিটি ল্যাবরেটরির সততা ও নিরপেক্ষতার
ওপরই সরকারের ভাবমূর্তি এবং দেশের রপ্তানি বাজার নির্ভরশীল।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ল্যাবরেটরির
কাজে সামান্য ত্রুটিও দেশের রপ্তানি বাজারকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যা
তার কাছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়। এ কারণে মাননিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের
সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও সততা বজায় রাখার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা রূপসা জাবুসা টোটাল ফুড প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেড এবং খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার ঘাগড়ামারী মৎস্য ঘের পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি চিংড়ি চাষিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন এবং তাদের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা শোনেন।