ভৈরব
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ২২:০৫ পিএম
আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ২২:১৮ পিএম
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বেড়েছে শীতবস্ত্রের চাহিদা। শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে দেখা দিয়েছে উপচে পড়া ভিড়। এদিকে বিক্রি বেড়েছে ভৈরব বাজারের বিভিন্ন সড়কের ফুটপাতে।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) ভৈরব বাজারে বিভিন্ন মার্কেট ও ফুটপাতে দেখা যায় ক্রেতাদের সরগম। ক্রেতাদের চাহিদামতো পসরা সাজিয়ে বাহারি ডিজাইনের শীতবস্ত্র নিয়ে বসেছেন দোকানিরা। পসরা সাজিয়েছেন বিভিন্ন সড়কে শীতবস্ত্রের দোকানগুলো। গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার টানা দুই দিন শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় এমন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
ভৈরব বাজার ছবিঘর রোডের আরিয়ান ফ্যাশনের মালিক জাবেদ মিয়ার বলেন, শীত বাড়লে বিক্রি বাড়ে। গত দুই দিন যাবৎ শীত বেড়েছে। ক্রেতারা দোকানে এসে ছোট বড় মাঝারিসহ সব ধরনের চাহিদামতো কম্বল নিয়ে যাচ্ছে। দোকানে সাড়ে ৪ হাজার টাকার কম্বল থেকে শুরু করে ১৩০ টাকায় কম্বল রয়েছে। শুধু শীত মৌসুমেই আমাদের গরম কাপড়ের ব্যবসা হয়।
ফুটপাতের শীতবস্ত্র বিক্রেতা রায়হান মিয়া বলেন, শীতের শুরুতে তেমন বিক্রি না হলেও গত দুই দিন যাবত বিক্রি বেড়েছে। ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায় পুরাতন জ্যাকেট ও সুয়েটারের গাঁইট কিনে আনতে হয়েছে। এখানে ২০০ টাকা থেকে শুরু করে পাঁচশ টাকায় ছেলেদের পুরাতন কোট, জ্যাকেট ও সোয়েটার পাওয়া যাচ্ছে। সব শ্রেণিপেশার মানুষেই আমার কাছ থেকে কাপড় কিনছেন।
নিউ মার্কেটে ব্যবসায়ী নাজিম উদ্দিন বলেন, শীতের শুরুতে তেমন বিক্রি না থাকলেও দুই দিন যাবৎ নারী-পুরুষ, শিশুদের শীতবস্ত্র ভালো বিক্রি হচ্ছে। এই শীতে মেয়েদের লং কোট, হুডি ও জেকেটে, বাচ্চাদের লাম্পার, জ্যাকেট, টু পিস সেট, সুয়েটার, ওয়েস্টার্ন শীতবস্ত্রও চাহিদা বেড়েছে। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতবস্ত্র বিক্রি আরও বাড়বে।
রিকশাচালক সুজন মিয়া বলেন, দুই দিন যাবৎ সূর্যের আলোর দেখা মেলেনি। কুয়াশা ও শীত বাড়ায় রিকশা চালাতে কষ্ট হয়। তাই ফুটপাত থেকে শীতবস্ত্র কিনেছি। আগে সরকারের সহায়তা পেলেও এবার এখন পর্যন্ত কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেননি।
ক্রেতা হীরা মিয়া বলেন, আমি ২০০ টাকায় একটা শীতের কম্বল কিনতে এসেছি। ফুটপাতে কম দামে শীতের কাপড় পাওয়ায় ফুটপাতই আমাদের ভরসা। সরকারের সহায়তায় আগে কম্বল পাইতাম, এই সরকারের আমলে কার কাছে যাব, সেটাই বুঝি না।
এ বিষয়ে উপজেলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, শীত আসতেই ভৈরব উপজেলায় ১৯০০ পিস কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে।