ঠাকুরগাঁও প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:২২ পিএম
ঠাকুরগাঁও শহরে রাতের অন্ধকারে হযরত বাবা শাহ সত্যপীর মাজার ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় এ ঘটনা ঘটে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে স্থানীয় লোকজন ও ভক্তরা মাজার এলাকায় গেলে বিষয়টি জানাজানি হয়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বিজিবির ঠাকুরগাঁও সেক্টরের সদর দপ্তরের সামনে
অবস্থিত হজরত বাবা শাহ সত্যপীরের মাজারটি শতাধিক বছরের পুরোনো। গতকাল সকালে লোকজন এসে
দেখতে পান, মাজারের প্রধান ঘরের দরজা ও জানালা ভাঙা। মাজারের পাশের দুটি কবরও ভাঙা।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি মনির হোসেন বলেন, ‘শনিবার সকালে স্থানীয় লোকজন ও ভক্তরা
ওই মাজারে গেলে মাজার ভাংচুরের দৃশ্য দেখতে পান। এর আগে শুক্রবার রাতের কোনো এক সময়ে
মাজারে ভাংচুরের ঘটনাটি ঘটে। আমরা তদন্ত করছি। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও প্রস্তুতি চলছে।’
মাজার ভাঙচুরের খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী,
পুলিশ সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘মাজার ভাংচুরের সঙ্গে কবরগুলোও ভাংচুর
করা হয়েছে। যেহেতু চুরির ঘটনা ঘটেনি তাতে একটি বিষয় স্পষ্ট ভাংচুরের ঘটনাটি ধর্মীয়
উগ্রপন্থীরা করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে, আশা করি দ্রুতই অপরাধীদের শনাক্ত
করে আইনের আওতায় আনা হবে।’
এদিকে মাজার ও কবর ভাঙার ঘটনা জানাজানি হলে
মাজারে আসতে থাকেন শত শত ভক্ত আশেকান। তারা মাজার ভাঙচুরের এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে
দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। দীর্ঘদিন ধরে মাজারটিতে শান্তিপূর্ণ
পরিবেশের মধ্যে ভক্তরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। মাজারের ভক্ত আলীম হোসেন বলেন,
‘মাজারটি আমার জন্মেরও আগের। কখনোই এখানে খারাপ কাজ হয়নি। মুনাফেক কিছু লোকজন রাতের
অন্ধকারে মাজার ভাংচুর করেছে এবং মাজারের কবরগুলোও ভাংচুর করেছে। আমরা চাই অপরাধীদের
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।’
হযরত বাবা শাহ সত্যপীর মাজার কমিটির সভাপতি
এনামুল হক বলেন, ‘শতশত ভক্ত আশেকান মাজারে এসে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। এই মাজারের
ভক্তরা কখনোই কোনো ধরনের খারাপ কাজ করেনি; এটা আমরা দৃঢ় ভাবে বলতে পারি। অথচ রাতের
আঁধারে কে বা কারা আমাদের মাজার ভাংচুর করেছে এবং মাজারে অবস্থিত কবরগুলোও ভাংচুর করেছে।’
তিনি বলেন, ‘যারাই ভাংচুর করুক তাদের যেন ছাড়
দেওয়া না হয়। প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই- প্রশাসন অবশ্যই ঘটনার তদন্ত করবে এবং অপরাধীদের
গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনবে। যারা
ভাঙচুর করেছেন, তাদের অন্য কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে।’