হবিগঞ্জ
আশরাফুল ইসলাম কহিনুর, হবিগঞ্জ
প্রকাশ : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:৪৭ পিএম
আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:০০ পিএম
হবিগঞ্জে বাড়ছে শীতের তীব্রতা। ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডা বাতাসের কারণে হবিগঞ্জে জেঁকে বসেছে হাড় কাঁপানো শীত। এতে শীতার্ত দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। কাজে যেতে পারছেন না দিনমজুর, কৃষি শ্রমিক, রিকশা চালকসহ নিম্ন আয়ের মানুষ।
হাড়কাঁপানো শীতে বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ শীতজনিত রোগের প্রকোপ। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করাই আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি।
সদর হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে শিশুরা। নিউমোনিয়া ও অন্যান্য রোগে ভর্তি আছেন ২ শতাধিক রোগী। আক্রান্ত শিশুদের বেডে স্থান সংকুলান না হওয়ায় হাসপাতালের মেঝেতে রেখে দেওয়া হচ্ছে চিকিৎসা। এর মাঝে ২ নবজাতক ঠান্ডাজনিত কারণে মারা গেছে।
সদর উপজেলার তেঘরিয়া গ্রামের কৃষক লাল মিয়া প্রতিদিন সকাল ও বিকালে শহরের বিভিন্ন স্থানে সবজি বিক্রি করেন। এ থেকে যা আয় হয়, তা দিয়ে চলে তার সংসার। গত বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকেও কনকনে ঠান্ডা থাকায় সবজি বিক্রি শেষ না করে বাড়ি ফিরে যান তিনি। রিকশাচালক ছালেক মিয়া বলেন, ‘জ্বরের জন্য ঠিকভাবে রিকশা চালাতে পারছি না। কিস্তি ট্যাহায় রিকশা কিনছি, ঘরে থাকলে কিস্তি দিমু ক্যামনে। এ জন্য বের হয়েছি। কিন্তু শীতের জন্য খুব কষ্ট হচ্ছে।’ বানিয়াচং উপজেলার বিজয়পুর গ্রামের কৃষক মাইন উদ্দিন বলেন, ‘মাঠে কাজ থাকলেও ঠান্ডার কারণে কাজে যাচ্ছি না। ঠান্ডা থেকে বাঁচতে পরিবারের সবাই মিলে খড়কুটোর আগুন জ্বালিয়ে দিন কাটাচ্ছি।’ লাখাই উপজেলার দিনমজুর নুর ইসলাম জানান, ‘আমরা গরিব মানুষ। ঠান্ডা আর প্যাটের ভোগ একসঙ্গে সহ্য করা মুশকিল। ঠান্ডার সময় আমাদের কষ্ট বেশি হয়, আমাদের জন্য গরমের দিন ভালো।’ সিএনজিচালক রমিজ মিয়া বলেন, ‘ঠান্ডার কারণে যাত্রী কমে গেছে। আগে প্রতিদিন গড়ে ৭০০-১০০০ টাকা আয় হতো, এখন ৩০০-৪০০ টাকা হয়। ঠান্ডায় মানুষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন কম।’
হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আমিনুল হক সরকার বলেন, শীতের তীব্রতায় শিশু ও বয়স্করা আক্রান্ত হচ্ছেন। নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে শিশু এবং বয়স্করাও ভর্তি হচ্ছেন। হাসপাতালের ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি আছেন। রোগীদের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও সেবিকাদের। তবে সাধ্যমতো চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। চিকিৎসকরা, নবজাতক ও শিশুদেরকে ঠান্ডা থেকে রক্ষায় গরম কাপড় পরিধান করানো এবং হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল করানোসহ ধুলাবালি থেকে রক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন।