নিয়ামতপুর (নওগাঁ) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:৩৮ পিএম
আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯:০১ পিএম
দেশের অন্যান্য বিভিন্ন স্থানের মতো নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় গত কয়েক দিন ধরে জেঁকে শীত পড়েছে। ক্রমশ নিম্নগামী তাপমাত্রা আর হিমেল হাওয়ায় রাতে বাড়ছে শীতের দাপট। একই সঙ্গে ঘন কুয়াশায় দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলছে না।
এতে জনজীবন যেমন স্থবির হয়ে পড়লেও কৃষিপ্রধান অঞ্চল হওয়ায় শীত উপেক্ষা করেই উপজেলার কৃষকেরা বোরো আবাদের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। বোরো আবাদ পুরোদমে শুরুর আগেই উপজেলা জুড়ে বীজতলা তৈরি ও পরিচর্যার কাজে নেমে পড়েছেন কৃষকরা। প্রচণ্ড শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বোরো বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখছেন তারা।
কৃষকেরা বলছেন, ঠান্ডা ও কুয়াশাজনিত কারণে বোরো বীজতলা হলদে ও লাল হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। তাই পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখলে বীজতলার কোনো ক্ষতি হয় না।
উপজেলার মায়ামারী গ্রামের কৃষক আবুল কাসেম জানান, এবার তিনি ১৫ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করবেন। তার জন্য বীজতলা তৈরি করছেন। শীত ও কুয়াশা থেকে বীজতলাকে রক্ষা করার জন্য পলিথিন দিয়ে ঢেকে রেখেছেন।
কাপাস্টিয়া গ্রামের কৃষক আনিছার জানান, তিনি বীজ ফেলার আট দিন পরে বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিয়েছেন। আর ২২ দিন পরে পলিথিন তুলে ফেলবেন। এতে করে বীজতলায় কোনো রোগবালাইয়ের আক্রমণ হবে না। রোপণের জন্য ভালো বীজ পাওয়া যাবে। পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখায় কোনো কীটনাশকও দিতে হয় না। তাই বাড়তি কোনো খরচও হয় না।
নিয়ামতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রচণ্ড ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার কারণে বীজতলায় ‘কোল্ড ইনজুরি’ দেখা দেয়। সেক্ষেত্রে বীজগুলো বড় হতে পারে না, সেই সঙ্গে হলদে ও লাল হয়ে মরে যাওয়ার পাশাপাশি পচে যায়। পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখলে বীজতলা গরম থাকে। ধানের চারাগুলো নষ্ট হয় না।