বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯:১৫ পিএম
আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯:২৭ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় বাঞ্ছারামপুর-নবীনগর আঞ্চলিক সড়কের পাশে মডেল মসজিদ থেকে সামান্য দূরত্বে পৌরসভার ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ের কারণে নষ্ট হচ্ছে সড়কের পরিবেশ ও তীব্র দুর্গন্ধে নাক চেপে চলাচল করতে হচ্ছে নবীনগর, মুরাদনগর ও কুমিল্লাগামী যাত্রীসহ স্থানীয় মানুষকে। বিঘ্ন ঘটছে মসজিদে মুসল্লিদের নামাজ আদায় করাও। একই সঙ্গে মডেল মসজিদের আশপাশের পরিবেশ হয়ে উঠেছে অস্বস্তিকর।
সরেজমিন দেখা যায়, ব্যস্ত এই সড়কের এক পাশে খোলা জায়গায় পৌর এলাকার বিভিন্ন
স্থান থেকে সংগ্রহ করা ময়লা-আবর্জনা স্তূপ করে রাখা হয়েছে। পচা বর্জ্য, প্লাস্টিক ও নোংরা আবর্জনা থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ।
বাতাস বইলেই সেই দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে পুরো এলাকাজুড়ে। ফলে, মোটরসাইকেল আরোহী, বাসযাত্রী, রিকশাচালক ও
পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।
বাঞ্ছারামপুর-নবীনগর সড়কটি দিয়ে
প্রতিদিন নবীনগর, মুরাদনগর ও
কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকার মানুষ যাতায়াত করেন। ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও রোগীবাহী যানবাহনের জন্য এই সড়কটি অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সড়কের পাশে ময়লার ভাগাড়ের দুর্গন্ধে অনেকেই বিরক্তি ও ক্ষোভ
প্রকাশ করছেন।
একজন নিয়মিত যাত্রী বলেন, এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হলেই দুর্গন্ধে নাক চেপে ধরতে
হয়। যানজটে পড়লে অবস্থা আরও অসহনীয় হয়ে ওঠে।
মডেল মসজিদের আশপাশে
অস্বস্তিকর দৃশ্য
যদিও ময়লার ভাগাড়টি মডেল
মসজিদের মূল ফটকের একেবারে সামনে নয়, তবে মসজিদ থেকে খুব কাছে হওয়ায় সবার কাছে খারাপ লাগে।
পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক পরিবেশের প্রতীক হিসেবে পরিচিত মডেল মসজিদের আশপাশে এমন
নোংরা দৃশ্য সাধারণ মানুষের চোখে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
মডেল মসজিদে নামাজ আদায় করতে
আসা মুসল্লিরা জানান, পবিত্র
স্থাপনার পাশে এ ধরনের ময়লার ভাগাড় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একজন মুসল্লি বলেন, মডেল মসজিদের সৌন্দর্য ও মর্যাদার সঙ্গে এই ময়লার দৃশ্য
একেবারেই বেমানান।
স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ময়লা জমে থাকায় এলাকায় মাছি ও মশার উপদ্রব
বেড়েছে। এতে ডায়রিয়া, জ্বর ও
চর্মরোগসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও
বয়স্কদের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী।
এই পরিস্থিতি থেকে দ্রুত
উত্তরণের জন্য সাধারণ জনগণ ও সচেতন মহল জোরালো দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, মডেল মসজিদের আশপাশ ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশ থেকে অবিলম্বে
ময়লার ভাগাড়টি অবিলম্বে সরিয়ে ফেল হবে। প্রয়োজনে পৌরসভার পক্ষ থেকে আলাদাভাবে জমি
ক্রয় করে নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন স্থাপন করে সেখানে ময়লা ও বর্জ্য ফেলার
ব্যবস্থা করতে হবে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, এটা শুধু সৌন্দর্যের প্রশ্ন নয়, জনস্বাস্থ্য ও ধর্মীয় পরিবেশ রক্ষার বিষয়। পৌরসভা চাইলে
আলাদা জায়গা কিনে আধুনিকভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করতে পারে।
এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার
দায়িত্বশীলদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত
তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।