খুলনা অফিস
প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ২২:২৬ পিএম
আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ০০:৫৮ এএম
খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম মাহাবুবুর রহমানকে (৫৬) ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে করা মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এমডি আসলাম হোসেনকে (৪৫) গ্রেপ্তারের পর ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) মার্কেট এলাকা থেকে বুধবার বিকালে আসলাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করে সদর থানা পুলিশ। এরপর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাদী।
আসলাম হোসেন খুলনা জেলা পরিষদের নিম্নমান সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, যিনি জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ হারুন অর রশিদের সহযোগী হিসেবে পরিচিত।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) সূত্রে জানা যায়, আসলাম হোসেন একই জেলা পরিষদের প্রশাসনিক
কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমানকে জীবননাশের হুমকি ও মামলার ভয়ভীতি দেখলে সে ঘটনায় খুলনা
সদর থানায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপরও হুমকি-ধমকি অব্যাহত থাকার অভিযোগে
গত ৮ ডিসেম্বর আসলাম হোসেনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেন মাহাবুবুর রহমান। এরপর
তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে বুধবার বিকেলে সদর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার
করলেও পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
গ্রেপ্তারের কিছুক্ষণ আগেও আসলাম হোসেন মোটরসাইকেল চালিয়ে জেলা পরিষদের কার্যালয়ে এসেছিলেন বলে জানান কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী।
এক প্রত্যক্ষদর্শী নাম না প্রকাশ করা শর্তে জানান, গ্রেপ্তারের পর আসলামকে খুলনা সদর
থানায় নেওয়া হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পরে তাকে জেলা পরিষদের আরেক কর্মচারী শেখ কওছার আলীর জিম্মায় দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, গ্রেপ্তারের পর আসামি গুরুতর অসুস্থতার কথা জানান। তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে কেএমপি কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, “ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”
বাদী মাহাবুবুর রহমানের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের পর একটি প্রভাবশালী পক্ষ আসলাম হোসেনকে ছাড়িয়ে নিতে তৎপরতা চালায়।
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নগরজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।