শফিক সরকার, ময়মনসিংহ
প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:৩৬ পিএম
ময়মনসিংহের তারাকান্দায় ভাষাসৈনিক শামছুল হক কলেজের অধ্যক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটির দ্বন্দ্বে একই এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান এখন দুই স্থানে পরিচালিত হচ্ছে। অনিয়মের অভিযোগে অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান কলেজে যেতে না পেরে তার নিজ জমিতে টিনের ঘর তুলে কিছু শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিয়ে পরিচালনা করছেন কলেজ কার্যক্রম। অন্যদিকে মূল কলেজ পরিচালনা করছেন দাতা সদস্য ও ইনডেক্সধারী কয়েকজন শিক্ষক। এতে মূলত দুভাগে চলছে একই এমপিওভুক্ত কলেজটি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহের তারাকান্দার পাথারিয়া গ্রামে ২০১৪ সালে ভাষাসৈনিক শামছুল হক নামে প্রতিষ্ঠিত হয় কলেজটি। কলেজটি ২০২৪ সালে এমপিওভুক্ত হওয়ার পর শিক্ষক, কর্মচারীসহ ২০ জনের নামে ইনডেক্সের নম্বর চালু হয়। অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুজ্জামান। কলেজে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগসহ ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে শিক্ষার্থী না থাকলেও এই বিভাগে দুজন শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব নিয়োগের বিষয়ে টাকার লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। কম্পিউটার কাম অফিস সহকারী পদে দুজনের পদে নেওয়া হয়েছে তিনজনকে। এসবের বিরুদ্ধে কলেজের দাতা সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষক প্রতিনিধির প্রতিবাদে গত মে মাস থেকে অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান কলেজে আসছেন না। কলেজে যেতে না পারায় মূল কলেজ ভবন থেকে কিছু দূরেই অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান নিজের জমিতে নতুন টিনের ঘর তুলে আলাদা কলেজ খুলেছেন। সেখানে তার অনুসারী কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারী এবং কিছু শিক্ষার্থী নিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন কলেজ কার্যক্রম। এর মাধ্যমে মূলত কলেজটি দুই ভাগে ভাগ হয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, মূল কলেজ ক্যাম্পাসে ১১ জন আর নতুন পরিচালিত টিনের ঘরে ৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
এলাকার বাসিন্দা মুক্কা মিয়া বলেন, আমরা দেখছি দীর্ঘদিন ধরে কলেজের অধ্যক্ষ ও দাতা সদস্যদের মাঝে দ্বন্দ্ব চলছে। দুই পক্ষে ঘটেছে নানা ঘটনাও। আমরা দ্রুত এর একটি স্থায়ী সমাধান চাই।
কলেজের পৌরনীতি বিভাগের প্রভাষক মোখলেছুর রহমান বলেন, অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামানের অনিয়মের প্রতিবাদ ও তার পক্ষে না যাওয়ায় আমার বেতন বন্ধ করে রেখেছেন। কয়েক মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছি।
দাতা সদস্য শাহাদাৎ হোসেন বলেন, কম্পিউটার কাম অফিস সহকারী দুজন পদে লোক নেওয়া হয়েছে তিনজন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে শিক্ষার্থী না থাকলেও এই বিভাগে দুজন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসবে প্রতিবাদ করায় গত ছয় মাস ধরে কলেজে এসে অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান বেআইনিভাবে তার বাড়ির কাছে একটি টিনের ঘর তুলে কলেজ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান বলেন, কলেজের দাতা সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষক আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে, আমাকে দেওয়া হয়েছে নানা হুমকি-ধমকি। এ কারণে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে আলাদা স্থানে ঘর তুলে কলেজটি পরিচালনা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক ময়মনসিংহ অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর একেএম আলিফ উল্লাহ আহসান বলেন, দ্বন্দ্ব সমাধানে একাধিকবার দুই পক্ষকে ডেকে সমাধান করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা কেউ কথা মানেননি। মূল ভবনের বাইরে কোনো প্রতিষ্ঠান চালু করা সম্পূর্ণ বেআইনি। কলেজটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।