× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কুয়েতে নেওয়ার প্রলোভনে নিঃস্ব ৫ দিনমজুর

সাইফুল হক মোল্লা দুলু, মধ্যাঞ্চল

প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:৩১ পিএম

দালাল হেলাল উদ্দিন সাধির।

দালাল হেলাল উদ্দিন সাধির।

কুয়েতের চাকরির ভিসা পাবেন এই আশায় জমি বিক্রি করেছেন, ধারদেনা করেছেন, অনেক স্বপ্ন গুছিয়েছেন। কিন্তু সবকিছু শেষ হয়ে গেল এক দালালের প্রতারণায়। জাল ভিসার ফাঁদে পড়ে তারা হারালেন মোট সাড়ে ৩২ লাখ টাকা। এই পাঁচ পরিবার পুরোপুরি পথে বসে গেছে। কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা ইটনার লাইমপাশা গ্রামের পাঁচ দিনমজুর জীবনের মোড় ঘোরানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন।

করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের দালাল হেলাল উদ্দিন সাধির তাদের দেখিয়েছিলেন কুয়েতের অয়েল কোম্পানিতে চাকরির স্বপ্ন। তার কথায় বিশ্বাস করে শরীফ মিয়া, মোশাররফ হোসেন, বাবলু মিয়া, লুসা মিয়া ও সানাউল করিম একে একে তুলে দেন সাড়ে ৩২ লাখ টাকা।

হেলাল তাদের কিশোরগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে তিন দিনের ট্রেনিং করান। কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে ফিঙ্গারও নেওয়া হয়, যা দেখে তারা আরও নিশ্চিত হন, সবকিছু ঠিক আছে। 

গত ৭ জুলাই হেলালের কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ার কানিকাটা এলাকার ভাড়া বাসায় নগদ টাকা পরিশোধও করা হয়। এরপরই শুরু হয় দুঃস্বপ্ন।

সময় গড়াতে গড়াতে তারা জানতে পারেন ভিসা সবই জাল। কুয়েতে কেউ তাদের নেবে না, হেলাল টাকাও ফেরত দিচ্ছে না। বরং টাকা চাইতে গেলে উল্টো হামলার মুখে পড়তে হয় তাদের। অভিযোগ রয়েছে, হেলালের ছেলে রিয়ান প্রভাব খাটিয়ে শরীফ মিয়াকে মারধর করে এবং জোর করে টাকা ছিনিয়ে নেন। এ ছাড়াও একদিন ডিবি পুলিশের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও উঠেছে।

ভিসার কপি যাচাই করে সব মিথ্যা প্রমাণিত হলে হতভম্ব হয়ে যায় পাঁচ পরিবার। বিদেশে যাওয়ার আশায় জমি বিক্রি, গরু-ছাগল বিক্রি, পাওনাদারের কাছে ধার সব মিলিয়ে এখন তারা নিঃস্ব।

ভুক্তভোগী শরীফ মিয়া বলেন, জীবনের সব সঞ্চয় দিয়ে ভিসা নিয়েছিলাম। এখন ঘরে খাবার নেই। পরিবার না খেয়ে দিন কাটায়। টাকা না পেলে মৃত্যু ছাড়া কোনো কিছুই করার থাকবে না

আরেক ভুক্তভোগী মোশাররফ হোসেনের বলেন, হেলালকে সবাই বিশ্বাস করাই ছিল ভুল। এখন দেখি আমরা গরিব বলে আমাদের কথা কেউ শুনতেই চায় না।

ভুক্তভোগী বাবলু মিয়া বলেন, আমাদেকে তিন দিনের সরকারি ট্রেনিং এবং ফিঙ্গার সব করানো হয়েছিল। কিছুই বুঝিনি। এখন সব শেষ।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইদুর রহমান বলেন, এই পাঁচ পরিবার এখন পুরোপুরি নিঃস্ব। টাকাও নেই। জীবনে দাঁড়ানোর ভরসাও নেই। পরিস্থিতি এমন যে, তাদের বাঁচার আর পথ নেই।

এদিকে অভিযুক্ত হেলাল উদ্দিন সাধি পলাতক। তার ছেলে রিয়ানের মোবাইল নম্বর কল দিলে তিনি রং নম্বর বলে ফোন কেটে দেন।

কিশোরগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ জাভেদ রহিম বলেন, পাসপোর্ট থাকলেই ট্রেনিং নেওয়া যায়। ভিসা দেখে ট্রেনিং দিই না। কেউ ট্রেনিংয়ের সুযোগ নিয়ে প্রতারণা করলে আমাদের জানারও সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসার আলী আকবরের সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, ভিসা যাচাই করা আমাদের কাজ নয়। আমরা শুধু ফিঙ্গার নিই। কেউ প্রতারণার শিকার হলে অভিবাসন আইনের আশ্রয় নেওয়াই উপায় রয়েছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা