মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:২৭ পিএম
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়নের মহিষখলা বাজারের প্রাচীন কালীমন্দির সংলগ্ন গাইড ওয়ালটি হেলে পড়েছে। এতে দুশ বছরের এই প্রাচীন কালীমন্দিরটি স্রোতস্বিনী মহিষখলা নদীর ভাঙনের কবলে রয়েছে। দ্রুত গাইড ওয়ালটি পুনর্নির্মাণ করা না হলে যে কোনো সময় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানির ধাক্কায় এই কালীমন্দিরটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত এটি রক্ষার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় আদিবাসী ও বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বী লোকজন।
জানা গেছে, ভারতের মেঘালয় পর্বতমালা থেকে নেমে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবল বেগে উপজেলার বংশীকুত্তা উত্তর ইউনিয়নের মহিষখলা বাজারের পশ্চিমপাশে থাকা মহিষখলা নদী দিয়ে প্রবাহিত হয়। দুশ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক কালীমন্দিরটি মহিষখলা নদীর তীর ঘেঁষে অবস্থিত।
২০০৯-২০১০ অর্থবছরে প্রাচীন এই কালীমন্দিরটি রক্ষায় এখানে সরকারি অর্থায়নে একটি গাইড ওয়াল নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে এই গাইড ওয়ালটি হেলে পড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল। এতে করে প্রাচীন এই কালীমন্দিরটি মূল স্থাপনাটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় আদিবাসী হাজং, বানাই ও বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিবছর ফাগুন মাসের প্রথম শনিবার এই মন্দিরের বার্ষিক পূজা হয়। ওই দিনে বাজারে বার্ষিক মেলাও বসে। পূজা ও মেলাকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার হিন্দু ধর্মাবলম্বী আদিবাসী ও বাঙালি পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটে। পূজায় পাঁঠা, কবুতর, হাঁস, মুরগি ইত্যাদি দেবতার সন্তুষ্টি লাভের জন্য উৎসর্গ করেন পূজারিরা। এ ছাড়া সপ্তাহের প্রতি শনি ও মঙ্গলবার এখানে পূজা হয়।
মহিষখলা কালীমন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি রণতোষ বানাই বলেন, ‘আমাদের কালীমন্দিরটিতে পূজার সময় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েক হাজার পুণ্যার্থীর আগমন ঘটে। নদী ভাঙন থেকে মন্দির রক্ষায় নির্মিত গাইড ওয়ালটি হেলে পড়ায় ও বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ায় এটি যেকোনো সময় মহিষখলা নদীতে আসা ঢলের স্রোতে নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। দ্রুত সময়ের মধ্যে গাইড ওয়ালটি পুনর্নির্মাণ করা প্রয়োজন।’
স্থানীয় বাসিন্দা ও আদিবাসী ট্রাইবাল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান অজিত কুমার হাজং বলেন, ‘সম্প্রতি ইউএনও মহোদয় মহিষখলা এসেছিলেন। তখন আমরা নদীতে হেলে পড়া গাইড ওয়ালটি তাকে দেখিয়েছি। তিনি কালীমন্দিরটি রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলেছেন।’
উপজেলার বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরনবী তালুকদার বলেন, ‘গাইড ওয়ালটি মারাত্মকভাবে হেলে পড়ায় ঐতিহাসিক কালীমন্দিরের মূল স্থাপনাটি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।’
মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় জানান, ‘গাইড ওয়ালটি পুনর্নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’