চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ২২:০৮ পিএম
জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে যে হতাহতের ঘটনা ঘটে, সেই ঘটনায় করা একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সাবেক মন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছে উঠেছে।
এই বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও চট্টগ্রাম পুলিশ সুপারের কাছে সোমবার
লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মো. ওমর ফারুক।
সেখানে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাটহাজারী মডেল থানাধীন হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ড গোলচত্বরে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি ও হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় গত বছরের ২ অক্টোবর হাটহাজারী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলার এক নম্বর আসামি আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তিনি চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং স্বৈরাচার সরকারের একজন সক্রিয় দোসর হিসেবে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেছিলেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আবেদনকারীর দাবি, মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। পলাতক থেকেও তিনি ও তার অনুসারীরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদী ও সাক্ষীদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন। এতে নিহতের পরিবারসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ সম্প্রতি হাটহাজারী এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করেছেন। এতে জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। একটি স্বাধীন ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রে এভাবে প্রকাশ্যে একজন হত্যা মামলার আসামির ঘুরে বেড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আনিসুল ইসলাম মাহমুদের বিরুদ্ধে জুলাইয়ের ওই হত্যা মামলা ছাড়াও একাধিক মামলা রয়েছে।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, জুলাই বিপ্লবের মূল চেতনা ছিল ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। খুনের মামলার আসামিরা যদি বিনা বিচারে পার পেয়ে যায়, তাহলে তা শহীদদের আত্মত্যাগের অবমাননা হবে। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারও প্রশ্নের মুখে পড়বে।
দ্রুততম সময়ে আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ওমর ফারুক।
আবেদনের অনুলিপি প্রধান উপদেষ্টা, আইন উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির কাছেও পাঠানো হয়েছে। আবেদনকারীর বর্তমান ঠিকানা চট্টগ্রামের চকবাজার উল্লেখ করা হয়েছে।