মো. আশিকুর রহমান, বাঞ্ছারামপুর
প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:২৬ পিএম
আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:৩৪ পিএম
বাঞ্ছারামপুরের মাটিও যে লেবু চাষের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় তা বাস্তবে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন শিক্ষক ও আধুনিক কৃষি উদ্যোক্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন। বৈচিত্র্যময় ও প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদের মাধ্যমে তিনি এখন পুরো উপজেলায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন।
ভেলানগর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মামুন পেশাগতভাবে
একজন শিক্ষক হলেও কৃষিই তার মূল নেশা। কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা শেষ করে অর্জিত
প্রযুক্তিগত জ্ঞান মাঠ পর্যায়ে কাজে লাগিয়ে আধুনিক কৃষির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন
করেছেন তিনি। শিক্ষকতার পাশাপাশি কৃষিকেই জীবনের শক্ত ভিত হিসেবে ধারণ করেছেন এ উদ্যোক্তা।
তার কৃষি জমিতে চোখে পড়ে ফসলের বৈচিত্র্য। মালটা, কমলা,
পেঁপে, কলা, ভুট্টা, কচু, করলা ও দেশি প্রজাতির নানা সবজি চাষে সফল তিনি। অবসর সময়
পেলেই মাটির টানে ক্ষেতে ছুটে যান। নতুন নতুন ফসল নিয়ে নিরন্তর পরীক্ষা-নিরীক্ষাই তার
কৃষি দর্শনের মূলভিত্তি।
চাষাবাদের শুরুর দিকে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়লেও থেমে
যাননি আব্দুল্লাহ আল মামুন। কচু চাষ দিয়ে যাত্রা শুরু করে ধাপে ধাপে ভুট্টা, কলা ও
করলার চাষ করেন। পরবর্তীতে লাভের সম্ভাবনা দেখে লেবু চাষে মনোযোগ দেন। বর্তমানে নিজের
জমির পাশাপাশি লিজ নেওয়া জমিসহ প্রায় সাত বিঘা জমিতে লেবু চাষ করছেন তিনি।
চায়না-৭ (চায়না-থ্রি) জাতের লেবু সারা বছর ফলন দেয়। কয়েক
মাসেই লেবু বিক্রি করে লাখ টাকা আয় করেছেন তিনি। বর্তমানে শুধু লেবু থেকেই তার মাসিক
আয় প্রায় এক লাখ টাকা বলে জানা গেছে।
আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “চাষাবাদের
শুরুতে অনেক হোঁচট খেয়েছি। নানা কথা শুনতে হয়েছে। কিন্তু থেমে যাইনি, কারণ মাটির টান
উপেক্ষা করা সম্ভব হয়নি।”
স্থানীয় কৃষক জামির শেখ বলেন, “আব্দুল্লাহর
কাছ থেকে আমরা আধুনিক চাষাবাদের অনেক কিছু শিখছি। তিনি আমাদের সবার সাথে মিশে চলেন,
কোনো অহংকার নেই।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আ. আল মামুন বলেন, “এই
উপজেলায় কৃষিতে সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল নাম আব্দুল্লাহ আল মামুন। তরুণরা তার মতো কৃষিতে
এগিয়ে এলে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কৃষি বিভাগ থেকে তাকে সার্বিক সহযোগিতা
করা হবে।”
আধুনিক কৃষিতে সফলতার এই গল্প এখন তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা
হয়ে উঠেছে। আব্দুল্লাহ আল মামুনের হাত ধরেই বাঞ্ছারামপুরে কৃষির নতুন সম্ভাবনার দুয়ার
খুলছে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।