ঝালকাঠি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:১১ পিএম
গুলিবিদ্ধ নিহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির স্মরণে নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২১ ডিসেম্বর) রাতে ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের কাজী খলিলুর রহমান মিলনায়তনে এ শোকসভা হয়।
এতে হাদির সহপাঠি, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।
শোকসভায় ওসমান হাদির জীবন, রাজনৈতিক দর্শন, ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তা, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং সাংস্কৃতিক ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে তার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, ওসমান হাদি ছিলেন বাংলাদেশপন্থী নতুন ধারার রাজনীতির একজন স্পষ্ট কণ্ঠ। বিভিন্ন সভা, সেমিনার ও টেলিভিশন টকশোতে তিনি বারবার ইনসাফ কায়েমের কথা বলেছেন। তার বক্তব্যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান এবং আধিপত্যবাদের বিরোধিতা স্পষ্টভাবে উঠে আসত। বক্তারা বলেন, সংস্কৃতির নামে যে একচেটিয়া আধিপত্য চাপিয়ে দেওয়া হয়, হাদি সেটিকে ‘কালচারাল ফ্যাসিজম’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানাতেন।
শোকসভায় আরও বলা হয়, গত বছরের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ১৩ আগস্ট প্রতিষ্ঠিত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে ওসমান হাদি ছাত্র-জনতা অভ্যুত্থান থেকে উঠে আসা একটি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্লাটফর্মকে সামনে এগিয়ে নেন। ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের মাধ্যমে তিনি গান, কবিতা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ব্যবহার করেন।
ঝালকাঠি জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান স্মৃতিচারণ করে বলেন, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে ১৬ জুলাই থেকে যখন ব্যাপক ভাবে আন্দোলন শুরু হয়েছে, তখন কয়েক জনের নামের সঙ্গে ওসমান হাদির নাম ততটা আসেনি। তিনি আলোচনায় আসেন তিন ও চার আগস্ট তারিখে শাহবাগে একটি স্লোগানে। লাফিয়ে লাফিয়ে উদ্দীপ্ত জোয়ানের মতো বলতে শুনেছিলাম দিল্লি না ঢাকা। সেই স্লোগান থেকেই আমি তাকে প্রথম চিনেছি।
জেলা প্রশাসক মোমিন উদ্দিন বলেন, ওসমান হাদিকে আমরা শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মী বা সংগঠক হিসেবে দেখলে ভুল হবে। তিনি ছিলেন চিন্তাশীল একজন মানুষ। যিনি সময়ের অনেক আগেই কিছু বিষয় বুঝতে পেরেছিলেন। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান ও পরবর্তী আন্দোলনের সময় তার ভূমিকা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শোকসভায় আরও বক্তৃতা করেন ঝালকাঠি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. হুমায়ুন কবির, ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।