জয়পুরহাট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৬:৩৩ পিএম
আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৬:৩৪ পিএম
ক্ষেতলাল উপজেলা সমাজসেবা অফিসারের কার্যালয়ে মানুষের ভিড়। প্রবা ফটো
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলা সমাজসেবা অফিসারের কার্যালয় থেকে মাহবুব আলম জনি (৩৫) নামে এক অফিস সহায়কের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকাল ৩টার দিকে সমাজসেবা অফিসারের কক্ষ থেকে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।
নিহত মাহবুব আলম জনি বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার দুর্গাহাটা ইউনিয়নের বটিয়াভাঙ্গা গ্রামের খায়রুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ ও অফিস সূত্রে জানা গেছে, মাহবুব চাকরির সুবাদে ওই অফিসে থাকতেন। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) থেকে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন তাকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও পাচ্ছিলেন না। পরে তিনি অফিসের পরিচ্ছন্নতা কর্মী জোবেদা খাতুনকে খোঁজ নিতে বলেন। জোবেদা খাতুন প্রথমে সকাল ৭টায় এসে তাকে না পেয়ে ফিরে যান, কিন্তু সকাল ১০টার দিকে আবার এসে জানালার ফাঁক দিয়ে ফ্যানের সাথে মাহবুবের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। তার চিৎকারে অফিসের আশপাশের স্থানীয় লোকজন ছুটে আসে। এরপর খবর পেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
পরিচ্ছন্নতা কর্মী জোবেদা খাতুন বলেন, স্যারেরা ফোন করে আমাকে বলেছে মাহবুবকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না, একটু দেখেন। তখন আমি সকাল ৭টার সময় এসে খুঁজে তাকে না পেয়ে বাড়িতে যাই। আবার ১০টার সময় এসে দেখি একটি ফ্যানের সঙ্গে তার লাশ ঝুলে আছে।
ক্ষেতলাল উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, গতকাল থেকে মাহবুবকে কল করে পাইনি। পতাকা টাঙানোর জন্য তাকে কল করছিলাম। পরে খালাকে (পরিচ্ছন্নতা কর্মী) কল করে মাহবুবকে দেখতে বলি। এরপর মাহবুবের ঝুলন্ত লাশ পাওয়া গেছে বলে আমাকে জানানো হয়। তারপর আমি দুপুরের দিকে অফিসে আসি।
এ ব্যাপারে ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, আমরা সমাজসেবা অফিস সহায়কের পরিবারকে খবর দিয়েছিলাম। আর সমাজসেবা অফিসের অফিসারও ছিলেন না। অফিসের কর্তৃপক্ষ ছাড়া আমরা ওই কক্ষে সকালে প্রবেশ করতে পারিনি। পরে তারা আসলে মাহবুবের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।