ময়মনসিংহ অফিস
প্রকাশ : ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:৩৭ পিএম
আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:৫২ পিএম
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় পারিবারিক কলহের জেরে ৭০/৮০ জন মিলে ফিল্মি স্টাইলে মোটর সাইকেলে এসে বাড়িতে হামলা করে প্রকৌশলীকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহতের মায়ের দাবী ছেলের শ্বশুর বাড়ির লোকজন প্রথমে বাড়িতে হামলা চালায় এবং তার ছেলের কোমরে গামছা বেঁধে বাড়ি থেকে ধরে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। নিহতের নাম সিফাত আহমেদ বাবু(২৪)।
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে উপজেলার মানকোন ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে। পুলিশ ঘটনা স্থল থেকে ফিরে যাবার প্রায় ১০ মিনিট পর স্থানীয় লোকজন সিফাত আহমেদ বাবুকে (২৪) রাইসমিলের পেছন থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত সিফাত আহমেদ বাবু শিবপুর গ্রামের হাতেম আলীর একমাত্র পুত্র। তিনি ঢাকার সাভারে একটি বেসরকারি কোম্পানীর সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ।
প্রকাশ ১ বছর আগে শিবপুর গ্রামের হাতেম আলীর ছেলে সিফাতের সাথে উপজেলার কেশবপুর গ্রামের মালেক মিয়ার মেয়ে সাথীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মাঝে পারিবারিক কলহ লেগেই থাকতো।১৬ ডিসেম্বর সিফাত ছুটিতে এসে স্ত্রীকে আনতে গেলে তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে আসতে দেয় নি। পরে সিফাতের মা নিলুফা তার ছেলের বউকে আনতে গেলে তাকে অনেক কটুকথা শুনায়। পরে সিফাতের মায়ের সাথে সাথী আক্তার তার শ্বশুর বাড়িতে আসেন। পরে সন্ধ্যায় তাদের স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বাকবিতন্ডা হয়। এসময় সাথী আক্তার তার বাপের বাড়ির লোকজনকে খবর দেয়। খবর পেয়ে তার বাপের বাড়ি থেকে ৭০-৮০ জন লোক এসে সিফাতের বাড়িতে হামলা চালায়। ঘটনা ভয়াবহ অবস্থায় গেলে সিফাতের বাবা ৯৯৯ এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছায়। তারপর সেখান থেকে পুলিশ ফিরে আসার ১০ মিনিট পর ময়মনসিংহ-জামালপুর স্থানীয়রা সিফাতকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।পুলিশ আসার পরও কিভাবে মৃত্যু হল তা এক রহস্য।
স্থানীয় বাসিন্দা আকরাম হোসেন বলেন, এশার নামাজ শেষে আমি এসে দেখি পুলিশ উপস্থিত। পরে পুলিশ সেখান থেকে লোকজন সরিয়ে চলে যায়। তার প্রায় ১০মিনিট পরে খরব পাই রাইস মিলের পিছনে সিফাতের অচেতন দেহ পড়ে আছে। ধারণা করি তারা পরিকল্পিতভাবেই তাকে হত্যা করেছে।
মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ লুৎফুর রহমান বলেন, ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাই। ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারে কাজ চলছে।