নারায়ণগঞ্জ অফিস
প্রকাশ : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:৩০ পিএম
নারায়ণগঞ্জে বকেয়া বেতনের দাবি ও বিনা নোটিসে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে কাজ বন্ধ রেখে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। শ্রমিকদের অভিযোগ, বেতন পরিশোধ না করেই কারাখানা বন্ধের পাঁয়তারা চালাচ্ছেন কারখানা কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে কোরেশ বাংলাদেশ লিমিটেড নামক সোয়েটার কারখানার শ্রমিকরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মৌচাক এলাকায় কলাগাছ ফেলে ও অগ্নিসংযোগ করে অবরোধ করেন। এতে প্রায় এক ঘণ্টা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নিয়ে রাস্তার পাশে কারখানার সামনে অবস্থান নেন শ্রমিকরা। অবরোধকালে মহাসড়কের উভয়পাশে সাইনবোর্ড হতে কাঁচপুর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটারে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
কারখানা কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, বিজিএমইএভুক্ত কোরেশ বাংলাদেশ লিমিটেড নামক সোয়েটার কারখানায় মোট ৩০০ জন শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত। এর মধ্যে ১২৬ জন পুরুষ শ্রমিক, ১২৪ জন নারী শ্রমিক এবং ৬৮ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। শ্রমিকদের অভিযোগ, চলতি বছরের নভেম্বর মাসের বেতন এখনও পরিশোধ করা হয়নি। বেতন পরিশোধের নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও কর্তৃপক্ষ কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না দেওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। এরই মধ্যে কর্তৃপক্ষ কারাখানা বন্ধের পাঁয়তারা চালাচ্ছেন। এতে শ্রমিকরা কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন। খবর পেয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ, থানা পুলিশ এবং হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আশ্বাস ও মধ্যস্থতার পর শ্রমিকরা মহাসড়ক থেকে সরে যান। এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কোরেস গার্মেন্টসের পরিচালক মেজর মশিউর রহমান বলেন, পেছন থেকে কিছু লোক শ্রমিকদের ইন্ধন দিয়ে এমন কাজ করাচ্ছে। শ্রমিকরা কানাঘুষা করছে ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে যাবে, বিষয়টা আসলে এমন নয়। আমাদের এ মাসে কাজ কম। এজন্য শুধুমাত্র গত নভেম্বর মাসের বেতন বকেয়া আছে।
তিনি আরও জানান, আমাদের ব্যাংকে ফান্ড রয়েছে। এই মাসে ফান্ডজনিত সমস্যার কারণে বেতন বকেয়া রয়েছে। আমি ফ্যাক্টরিতে যাচ্ছি। শ্রমিকদের সাথে বিষয়টা নিয়ে বসে সমাধান করব।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, মালিক এবং শ্রমিকদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের জন্য বলেছি। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৪-এর নারায়ণগঞ্জ জোনের পরিদর্শক (ইন্টেলিজেন্স) সেলিম বাদশা বলেন, শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করলেও তাদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি সমাধানে শ্রমিক প্রতিনিধিদের সাথে মালিকপক্ষের বৈঠক হয়েছে।
অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের রাসেল গার্মেন্টস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়ায় কারখানার সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে শহরের ১নং রেলগেট এলাকায় গার্মেন্টসের সামনে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন প্রায় দুই শতাধিক শ্রমিক। এ সময় শ্রমিকরা জানান, সকালে কাজে এসে তারা দেখতে পান গার্মেন্টসটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকে তারা আর গার্মেন্টসে প্রবেশ করতে পারেননি। এর আগে গত ১৭ ডিসেম্বর করখানা কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেন।
শিল্প পুলিশের ওসি সেলিম বাদশা জানান, অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে কোনো ভাঙচুর বা গাড়ি চলাচলের সড়ক বন্ধ করেননি শ্রমিকরা।